

একটি মেয়ে, যে কি না পরিবারের সবার কাছে অপ্রিয়! কারণ ও বিবাহযোগ্য, কিন্তু বিয়েতে রাজি হচ্ছে না। এত পীড়াপীড়ি, এত দেনদরবার, তবুও রাজি করানো যাচ্ছে না। সমস্যা কোথায়? চিন্তার বিষয় বটে! তারপর একের পর এক বিয়ে বিনা নোটিশে নাকচ করে যাচ্ছে! পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ, বিরক্ত, রাগান্বিত! এটা তো শুভলক্ষণ নয়। যে মেয়ের মাসে দুই-একটা বিয়ের সম্বন্ধ আসছেই, আর সব সম্বন্ধ মাশাআল্লাহ—সবাই বড়লোক বাপের হ্যান্ডসাম হিরো, সুযোগ্য, শিক্ষিত এবং ভালো পজিশনে আছে। তাহলে মেয়েটির সমস্যা কী? কাউকে কি ভালোবাসে ও? গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করছে না? নাকি ফিজিক্যাল কোনো প্রবলেম? কিন্তু তা থাকার কথাও নয়। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলে, ও পুরোপুরি সুস্থ, কোনো প্রবলেম নেই। তবে মেয়েটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ওর হাই-কোয়ালিটি সম্পন্ন পাত্র লাগবে, যে হবে ‘মিস্টার পারফেক্ট’! যাকে দেখলে ভালোলাগা কাজ করবে, মনে ভালোবাসা আর ফিলিংস জাগবে! মনের মধ্যে সাড়া জাগবে—আদারস কিছুই লাগবে না; ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা কিংবা যশ-খ্যাতি কিছুই না। মেয়ের এমন মনোভাব শুনে সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে। এ মেয়ের বিয়ে বোধহয় আর হলো না! কেননা ‘মিস্টার পারফেক্ট’ পৃথিবীতে আদৌ কেউ আছে কি? কারো কি কোনো কমতি থাকে না? অনেক কমতি আছে। আল্লাহ কাউকে সম্পূর্ণ করে বানাননি; খুঁত প্রত্যেকেরই আছে। মেয়েটির বিয়ের বয়স পার হয়ে যায়। পড়াশোনার নেশায় মত্ত হয়ে গেছে সে। কিন্তু পরিবারের নিপীড়ন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর ওর মনের মতো জীবনসঙ্গীর আগমনেও অনেক দেরি। এক অজ্ঞাত যুবকের প্রতি ভীষণ অভিমান জন্মে ওর। ‘নীল রঙা কষ্ট’ মেয়েটিকে বেদনায় নীল করে তোলে। অতিষ্ঠ হয়ে যায় সে। কেন আসছে না ওর জীবনসঙ্গী? আদৌ কি মেয়েটির মনে ফিলিংস আসবে? স্বপ্নপুরুষ বাস্তবে আসবে কি? এটা কি সম্ভব? ওর ফিলিংসওয়ালা কেউ কি নেই? এটা কি শুধু সিনেমাতেই দেখায়? বাস্তবে কি মনে ঘণ্টা বাজিয়ে কেউ আসতে পারে না? ওর বুকের ভেতরের সেই নীল রঙা কষ্টের কি শেষ হবে না? প্রিয়জনের হাহাকার নিয়ে কি ওকে জীবন কাটাতে হবে? জানতে হলে পড়তে হবে "নীল রঙা কষ্ট" উপন্যাসটি।
