

আয়াশ সাইকেলটা ইচ্ছে করেই ধীরে চালাচ্ছে। সামনে অনেকটা ফাঁকা রাস্তা। বাকি সবাই অনেক আগেই চোখের আড়াল হয়ে গেছে। হিয়া প্রথমে কিছু বলেনি, শুধু চারদিকে তাকাচ্ছিল। চেরি ব্লসমের পাপড়ি ওর চুলে এসে আটকে যাচ্ছে, গাউনের ওপর পড়ে থাকছে। কিছু পাপড়ি ওর কোলের ওপর জমে আছে। ও হাত বাড়িয়ে একটা পাপড়ি তুলে দেখল, তারপর আবার বাতাসেই ছেড়ে দিল। হঠাৎ একটু জোরালো বাতাস এল। একসাথে অনেকগুলো ফুল ঝরে পড়ল—যেন কেউ ওপর থেকে মুঠো মুঠো গোলাপি রং ছুঁড়ে দিচ্ছে। আয়াশ থামেনি, তবে গতি আরও কমিয়ে দিল। রাস্তার ওপর পাতলা হয়ে ফুল বিছানো। সাইকেলের চাকা এগোলে পাপড়িগুলো একটু উড়ে গিয়ে আবার থিতু হচ্ছে। চারপাশ এত চুপচাপ যে শুধু চাকার ঘূর্ণন আর হালকা বাতাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। হিয়া অজান্তেই আয়াশের শার্ট শক্ত করে চেপে ধরল। জাপান নিয়ে ওর যত বিষাদময় স্মৃতি ছিল, এই বিকেলটা যেন তার সবটুকু ভুলিয়ে দিচ্ছে। এই শহরটাকে আজ অন্যরকম লাগছে—কষ্টের জায়গায় এক অদ্ভুত প্রশান্তি। সূর্য ধীরে ধীরে ডুবছে। আকাশে নরম গোলাপি আভা ছড়িয়ে পড়েছে। সেই আলো আর ঝরে পড়া ফুল মিলেমিশে মুহূর্তটাকে এক জায়গায় স্থির করে দিয়েছে। আয়াশ এতক্ষণ হিয়াকে পর্যবেক্ষণ করছিল। ওর পিঠে হিয়ার মাথা ঠেকানো আর চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করা—সবকিছুই ও খুব নিবিড়ভাবে খেয়াল করছিল। বাতাসের তীব্রতা দেখে আয়াশ নরম গলায় বলল, “ঠান্ডা লাগছে?” হিয়া মাথা নেড়ে বলল, “না, ভালো লাগছে।” সত্যিই আজ ভালো লাগছে হিয়ার। এই আবহাওয়ায় ওর মনের সব ভার হালকা হয়ে যাচ্ছে। আয়াশ এগিয়ে চলল গোলাপি ছাউনির নিচ দিয়ে। পেছনে ঝরে পড়া পাপড়ির ওপর চাকার দাগ রয়ে গেল, কিন্তু মুহূর্তটা অমলিন হয়ে থেকে গেল—শান্ত, ধীর আর অদ্ভুত সুন্দর। কিছুদূর গিয়ে আয়াশ হঠাৎ সাইকেল থামাল। রাস্তার একপাশে ছোট্ট কাঠের ব্রিজ, নিচে সরু খাল বয়ে যাচ্ছে। খালের জলে ভাসছে চেরি ব্লসমের পাপড়ি। গোলাপি ফুলের ছোঁয়ায় জলটাও যেন রঙিন হয়ে গেছে। “নামবে?” আয়াশ নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল। হিয়া কিছু না বলে নেমে দাঁড়াল। ওর গাউনের নিচের অংশে কয়েকটা পাপড়ি লেগে আছে। বাতাস আবারও এক পশলা নরম দমকা দিয়ে গেল। গাছের ডাল থেকে একসাথে অনেকগুলো ফুল ঝরে পড়ল। এবার হিয়া মাথা উঁচু করে আকাশের দিকে তাকাল। পাপড়িগুলো ওর মুখে আর চুলে এসে লাগছে। ও এবার আর চোখ বন্ধ করল না। আয়াশ একপাশে দাঁড়িয়ে অপলক চেয়ে রইল ওর দিকে।
"ফিজা আপুর লেখা আমার বরাবরই পছন্দের। আমার বিশ্বাস ছিলো, সব গল্পের মতো এটাও চমৎকার হবে। এবং হয়েছে ও। অনেক সুন্দর একটা গল্প এটা।"
ফিজা আপুর লেখা আমার বরাবরই পছন্দের। আমার বিশ্বাস ছিলো, সব গল্পের মতো এটাও চমৎকার হবে। এবং হয়েছে ও। অনেক সুন্দর একটা গল্প এটা।
Read all reviews on the Boitoi app
সত্যি কথা বলতে আমার কাছে বেস্ট লেগেছে বেস্ট! এক কথায় অসাধারণ। 🤍🤍💮💮
আয়াশ হিয়া তো সেই হিয়ার মাঝে তুমি গল্প থেকেই ফেভারিট জুটি ছিলো। নতুন করে আবার ওদের কাহিনী পড়তে ভালো লাগলো। হিয়া আর তার কুমিরের ধীরে ধীরে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করাটাও দারুন ছিলো। আর আয়াশ আর বন্ধুমহলের বন্ডিংটা সেরা লেগেছে। রিদ্ধ আর ওর পরিবারের জন্য প্রথমে কতো খারাপ লেগেছিলো কষ্ট পেয়েছিলাম লাস্টে তো আমি অবাক কত নিচ ওরা। যদিও শাস্তি পেয়েছে তবে একটা কমতি লেগেছে রিদ্ধর একবার হলে হিয়ার মুখোমুখি হয়ে ওর সুখী সংসার দেখা উচিৎ ছিলো। এক কথায় অসাধারণ ছিলো প্রহর আপুউউউ। ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা গল্প লেখার জন্য..🤍
অসম্ভব ভালো একটা গল্প শেষ টা দেখে রিদ্ধ রিধির পরিণতি দেখে আলাদাই satisfaction কাজ করলো এরকমই হওয়া উচিত ছিল । আর কুমির থুরি আয়াশ কে নিয়ে কি আর বল বেস্ট হিরো আর ভালো লাগলো হিয়া কে যে ও অতীত কে নিয়ে পড়ে থাকেনি বর্তমান কে আগলে বাঁচতে চেয়েছে ।গোটা বন্ধু মহল কি আগের বার এর মতই অসাধারণ লেগেছে সত্যি বন্ধু এমনি হওয়া উচিৎ।গল্পের ছবি তার সাথে গল্পের লেখা জাপানের অংশ টা একদম মিলে গেছে যখন পড়েছি মনে হচ্ছিল দৃশ্যটা যেনো চোখে দেখেছি । লেখিকা আপুর লেখা নিয়ে আর কি বলব এত সুন্দর যে মনে হয় গল্প যেনো শেষ না হয় এই গল্পের মাধ্যমেই লেখিকার গল্প পড়া শুরু করেছিলাম । ই বুক পড়ে নিরাস হোই নি উল্টে আরো প্রেমে পড়ে গেলাম লেখনীর। শেষে এটাই বলব আবার এসো লেখিকা আপু আয়াস - হিয়া, রিকার্ডো - আহানা কে নিয়ে।আমরাও দেখি কুমির এর মেয়ে জামাই এর প্রেম কাহিনী🫢।সব শেষে অনেক ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটা গল্প উপহার দেওয়ার জন্য❤️💫
আয়াশ এর ভালোবাসা,, হিয়ার পিছুটান।।।সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা গল্প।।ফেসবুকে যখন।পড়েছিলাম তখনি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম কুমিরের,আই মিন আয়াশের❤️❤️❤️❤️❤️ আর ই-বুক পড়ে আরো ভালো লাগলো।।আপু,অনেক সুন্দর লিখেছেন।।।সংগ্রহ করে রাখার মতো স্কোপ দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ