

এটি একটি ছোট্ট উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখক নিজের বর্তমান সময়কে উপেক্ষা করে অতীত সমাজকে ধারন করে লিখেছেন। তিনি এমন যুগের প্রেক্ষাপট নিয়ে উপন্যাসটি রচনা করেছেন যখন জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পথে, গনতন্ত্র ব্যবস্হা চালু হওয়ার পথে। এমন যুগের মাঝে রহমতগঞ্জের কয়েকটি পরিবারকে লেখক অল্প কথায় তুলে ধরেছেন। সেই পরিবারের মধ্যে অপূর্ণ, অনিহা ও জমিদার পরিবারের কথা উল্লেখযোগ্য। অপূর্নর পরিবার রহমতগঞ্জের অস্হায়ী বাসিন্দা। পারিবারিক সমস্যার কারনে নিজেদের গ্রাম ছেড়ে অপূর্ণর মা-বাবা রহমতগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। এখানেই জন্ম হয় অপূর্ণর। তার বয়স যখন দুই বছর তখন তার বাবা অজানা রোগে মারা যান। তারপর থেকে অপূর্ণর মা অতি দুঃখ দারিদ্রতার সঙ্গে তার ছেলেটাকে বড় করতে থাকেন। তিনি জমিদার বাড়ির কাজের লোক হিসেবে পারিশ্রমিক পেতেন। তাই দিয়ে তিনি ছোট্ট অপূর্ণকে লালন করে বড় করে তোলেন। অপূর্ণকে বিদ্যা-শালাতেও পাঠানো হয়। সে সেখানে গিয়ে অনিহার ময়ূরের পেখম চুরি করে। পরবর্তীতে সে তা ফিরিয়ে দিতে চাইলে হারিয়ে ফেলে। তখন সেই অনিহা আবেগে তাকে ভর্ৎসনা দেয়, "আমার প্রিয় জিনিস হারিয়ে যেমন খারাপ লাগছে তোরও একদিন প্রিয় জিনিস হারিয়ে যাবে।" এ ঘটনার অনেক বছর পর অপূর্ণকে দেখানো হয়, সে এখন বিশ বছরের তরুন-যুবক। সে গিয়েছিলো জংগলে কাঠ কাটতে। তার মা বেশ কয়েকমাস ধরে অসুস্থ। তার উঠে দাড়ানোই কষ্টকর। তিনি নিজেকে ছেলের বোঝা মনে করতেন। কিন্তু তার ছেলে মাকে ভীষন ভালোবাসে। প্রথম দৃশ্যে সে নৌকা বাইয়ে আসে এবং কাঠ বিক্রি করে মায়ের রুচি পরিবর্তনের জন্য ক্ষানিক মাংস কিনে আনে। কিন্তু সে তো রান্না জানে না তাই সে ছুটে যায় অনিহাদের বাড়ি। অনিহার মা, খুব ভালো প্রতিবেশি। যেদিন থেকে তার মা অসুস্হ হয়ে তিনি সেদিন থেকে অপূর্ণদের প্রায় সকল ধরনের কাজ করে দেন। অপূর্ণ তাকে কাকি বলে ডাকে। তার মেয়ের সাথে অপূর্ণর বন্ধুত্ব খুবই দুষ্টুমির । তারা হরদম মিষ্টি ঝগড়াতে লিপ্ত থাকে। অনেকে মনে করে, তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে। এমনকি এ ব্যাপারটা অনিহার মাও জানেন। কিন্তু তিনি এটা তাদের ছেলে-মানষী বলে পাত্তা দেন না। অপূর্ণর মা, গল্পের শুরুর দিকে তার খোকাকে প্রস্তাব দেয়, অনিহাকে ঘরের বউ বানাতে। কিন্তু অপূর্ণ অন্য কারনে মায়ের কথাকে গুরুত্ব দেয় না। কাঠ কাঁটার কারনে অপূর্ণর হাতে ফোসকা পড়ে যায়। সেই ফোসকা নিরাময়ের ঔষুধ নিয়ে অনিহা চলে যায় জমিদার বাড়ি। সেখানে অপূর্ণ তার মায়ের পরিবর্তে কাজ করে। সেখানে গিয়ে অনিহার দেখা হয় তার বাল্যকালের সখী পূর্ণতার সঙ্গে। সে অপূর্ণর ব্যাপারে বেশ আগ্রহ নিয়ে অনিহার সাথে কথা বলে। তাদের কথা বলার মাঝে হাস্যকর এক চরিত্রকে পাওয়া যায়। যিনি হলেন পূর্ণতার দাদু। তিনি সংস্কৃত, চলিত সাধু সব ভাষার সংমিশনে কথ বলতে ভালোবাসেন। তার একটা বদঅভ্যাস এই, তার ঘন-ঘন পাদের চাপ পায়। তিনি তো উপস্থিত কয়েকজনকে পাদের সংগাও শুনিয়ে দেন। সবাই তার বলা পাদের সঙ্গা শুনে প্রচন্ড হাসে। অনিহাও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারে না। অনিহা জমিদার বাড়ি থেকে ফিরে বিকেলের দিকে পুনরায় অপূর্নদের বাড়ি আসে। সেখানে অপূর্ণর সাথে তার মিষ্টি ঝগড়ার সাথে কয়েকটা কথা হয়। সেদিন রাতে অনিহার বাবা সিদ্ধান্ত নেন, তার বিয়েটা দ্রুত দিয়ে দিবেন। তিনি তার স্ত্রীর সাথে মতামত নিয়ে জানতে পারেন, অপূর্ণর সাথে নাকি তার মেয়ের প্রেম চলে। এতে তিনি কিছুটা দিধায় পড়ে যান। তবে মেয়ের সুখের জন্য তিনি অসচ্ছল অপূর্ণর পরিবর্তে ধনী এক ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। ছেলেটার নাম উপন্যাসের শেষে পাওয়া যায়। তার নাম বিপ্লব। সে খুবই নম্র-ভদ্র একটা ছেলে। সে বিয়ের রাতে অনিহার কাছে জানতে পারে, অনিহা নাকি অন্য কাউকে ভালোবাসে। অনিহা ছেলেটার কাছে সাহায্য চায়। ছেলেটা তার কথা রাখে এবং দীর্ঘ কয়েক মাস সে অনিহার প্রতি সংযম করায় আদর্শ পুরুষ হিসেবে অনিহার কাছ থেকে উপাদি পায়। ছেলেটা অনিহার সাহাযার্থে মিথ্যা এক অভিযোগ সকলের সামনে হাজির করে। পরে বিপ্লবের পরিবার অনিহাকে চিরদিনের জন্য বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তাড়াহুড়োয় তালাকপত্রে অনিহার স্বাক্ষর নিতে তারা ভুলে যায়। অনিহা যখন বিপ্লবের বাড়ি থেকে বের হয় তখন বিপ্লবের চোখে পানি দেখা যায়। মায়ার পানি। এদিকে অপূর্ণর কাছে অনিহা না থাকায় পূর্ণতা নিজের আকাঙ্খা পূরনের জন্য অপূর্ণর পিছে লেগে পড়ে। এরপর অনিহা ফিরে আসলে অপূর্ণ তাকে মায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের হিসেবে গ্রহন করে। তাদের বিয়ের দিন পূর্ণতা এলাহি কান্ড ঘটাতে বসলে অপূর্ণ তাতে বাঁধা দেয়। এবং পূর্ণতাকে ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিক্ষা করায়। কিন্তু পূর্ণতা ভালো হয় না। সে অপূর্ণর বন্ধু তন্ময়কে নিজের ছলে আবদ্ধ করে। তন্ময় তার মোহে পড়ে নিজের বন্ধুকে হত্যা করে বসে। অপূর্ণর মৃত লাশ দেশে ফিরলে তার মা. জননী সবচেমে বেশি ভেঙে পড়েন। অনিহা যতদূর সম্ভব নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছে। কারন অপূর্ণ, বানিজ্যে যাওয়ার একদিন আগে অনিহাকে মানসিকভাবে শক্ত করে গিয়েছিলো। হয়তো তার এক মন বুঝে ফেলেছিল বানিজ্য থেকে সে জীবিত ফিরতে পারবে না। অপূর্ণর প্রেমের ঝুড়ির সাতচল্লিশটি চিঠিতেও অনিহার সামনের জীবন এগিয়ে যাওয়ার অনেক উপদেশ বর্ণিত রয়েছি। কিন্তু অনিহা তার দুধের শিশু অর্নব এবং তার শাশুড়ির ভবিষ্যতের কথা ভেবে দিধায় পড়ে যায়। সে কি সিন্ধান্ত নিবে খুজে পাচ্ছে না। এই মূল ঘটনার বিস্তারিত গল্প কথার মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি লেখক অল্পতেই ইতি টেনেছেন।