

হাতের কাজ শেষ করে এবার ওয়াজফান অর্ষার গলার কাছে হাত বাড়াল, ব্যথার জায়গায় মলম লাগাতে। কিন্তু অর্ষা হঠাৎ সরে গেল। এই সরে যাওয়াটা ওয়াজফানের চোখ এড়াল না—বরং বিরক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠল তার দৃষ্টিতে। এক হাতেই অর্ষার কোমর পেঁচিয়ে ধরে এক টানে তাকে নিজের কোলে বসিয়ে নিল সে। রাগ চেপে রাখা গলায় বলল, —কি হয়েছে? দূরে যাচ্ছ কেন? দেখছো না, মলম লাগাচ্ছি? অর্ষা আর কিছু বলার সাহস পেল না। পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে আজ মার খাওয়ার জন্য সে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল, অথচ মার তো দূরের কথা—ওয়াজফান তাকে যত্ন করে ওষুধ লাগাচ্ছে। এখন কিছু বললে যদি আবার রেগে যায়, সেটা সে চায় না। তবু অস্বস্তি এড়াতে পারল না অর্ষা। এই প্রথম কোনো ছেলের কোলে বসা—অচেনা উষ্ণতা আর ভয় একসাথে বুকের ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিল। অর্ষার গলায় ধীরে, অদ্ভুত যত্নে মলম লাগিয়ে দিচ্ছিল ওয়াজফান। তার আঙুলের স্পর্শ ছিল নরম, কিন্তু নিজের ভেতরের অস্থিরতা সে লুকোতে পারছিল না। অর্ষার শরীরের ঘ্রাণ—সেই প্রথম দিনের মতোই আজও তাকে টানছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ঘ্রাণ যেন এটাই; একবার টের পেলে আর ভুলে থাকা যায় না। এই ঘ্রাণই ধীরে ধীরে তাকে অস্থির করে তুলছিল, পাগল করে দিচ্ছিল। হঠাৎ ওয়াজফান খেয়াল করল, অর্ষা কাঁপছে। ভ্রু কুঁচকে গেল তার। রুম তো গরম—তাহলে কাঁপছে কেন? আরও একটু মনোযোগ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করল। তখনই বুঝে গেল, যতবার সে অর্ষার গলার ব্যথার জায়গায় হালকা করে ফুঁ দিচ্ছে, ততবারই অর্ষার শরীর কেঁপে উঠছে। অর্ষা নিজের জামার কাপড় শক্ত করে চেপে ধরছে, যেন নিজেকে সামলে রাখার চেষ্টা করছে। ওয়াজফানের চোখ আটকে গেল অর্ষার ঠোঁটে। গোলাপি ঠোঁটজোড়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাঁপছে—ভয়, অস্বস্তি আর অজানা অনুভূতির মিশ্রণে। সেই মুহূর্তে নিজেকে আর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারল না সে। ধীরে অর্ষার চুলের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে, খুব অল্প সময়ের জন্য তার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। ওয়াজফান ভেবেছিল, অল্প একটা চুমুতেই থেমে যাবে। কিন্তু অর্ষার ঠোঁট থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারল না সে। যেন বহুদিনের পরিচিত, ভীষণ প্রিয় কোনো স্বাদের ছোঁয়া পেয়েছে—অচেনা অথচ নেশার মতো। মুহূর্তের ভেতরেই সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে গেল, আর সে অজান্তেই আরও কাছে টেনে নিল অর্ষাকে।ধীরে ধীরে তার হাত অর্ষার জামার ভিতরে চলে গেলো সে অর্ষা বুকে হালকা চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করলো।