

মেহরাব স্পষ্ট কণ্ঠে জানাল, “গ্রহণ করেছি বলেই আপনি আজ এখানে। নাহয়… গতকালই আপনাকে রেখে আমি বিয়ের আসর থেকে উঠে আসতে পারতাম।” “এখন বলুন, আপনি কি চান আমি এখান থেকে চলে যাই? লোকদেখানো গ্রহণ করা আর জোর করে মানিয়ে নেওয়ার নাটক করার নাম সংসার নয়। সংসার তো সেটাই, যেখানে একে-অন্যের ভরসা হয়ে উঠতে পারে। একে-অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে। এমনকি সহমর্মিতা দেখিয়ে সম্পর্ককে সমস্ত জটিলতা, ঝড়-তুফান ও বিপদ-আপদ থেকে আগলে রাখতে পারে। আপনি যেভাবেই আমাকে গ্রহণ করুন না কেন, এই গ্রহণের নাম যদি শুধু দয়া ও করুণা হয়… তাহলে আমি এক্ষুনি, এই মুহূর্তে এই বাড়ি থেকে চলে যাব। কারও দয়া ও করুণায় বেঁচে থাকার জন্য আমি এখানে আসিনি!” এইটুকু বলে মেহরাবের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট উত্তরের আশায় দাঁড়িয়ে রইল সামীরা। মেহরাব এবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, “আমি কি একবারও বলেছি, আমি আপনাকে দয়া ও করুণা দেখাতে বিয়ে করেছি?” “তাহলে? কেন বিয়ে করেছেন? শুধুমাত্র মায়ের কথা রক্ষার্থে? না কি নিজের প্রয়োজন মেটাতে?” প্রশ্নগুলো যথেষ্ট বিব্রত করল মেহরাবকে। নতমুখে সামান্য হাসলও সে। এরপর চোখ তুলে বলল, “প্রয়োজন! আসলেই কি আপনি জানেন, আমার প্রয়োজন কী?” সামীরা নিজেও এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। এ কারণে নীরব রইল। সব সম্পর্ক শুধু প্রয়োজন দিয়েই বিচার করতে নেই। এটা সে বুঝতে পারলেও, যথোপযুক্ত উত্তর না পেলে নিজেকে সহজে এই বাড়ির একজন ভাবতে পারবে না। মেহরাব বলল, “বিয়ে নামক পবিত্র সম্পর্কটা শুধু দু’জন মানুষের ফিজিক্যাল ইন্টিমেসির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সামীরা। কিছুক্ষণ আগে আপনি যা বললেন—বিশ্বাস, ভরসা, সহমর্মিতা—একটা সংসার বাঁচিয়ে রাখে। তেমনই দুটো মানুষের মানসিক বন্ধনকেও একই সূত্রে গেঁথে দেয় এই বিয়ে। এরপরই শুরু হয় তাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই। এখন যদি আপনার আর আমার মধ্যে মানসিক বন্ধনটাই গড়ে না ওঠে, এই সম্পর্ককে সম্মানের সঙ্গে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে? কিংবা সামনে এগোনোর চেষ্টা না করেই গোড়াতেই তা শেষ করে দেওয়া কি ঠিক হবে?” সামীরা মন খারাপের মধ্যেও একটুখানি হেসে বলল, “অথচ আপনি গতরাতে বলেছিলেন, আপনার স্ত্রীর জায়গায় আমাকে মেনে নিতে পারবেন না।” মেহরাব উত্তর দিল, “হ্যাঁ… সত্যিই। রুশার জায়গা কাউকে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমি ওর সঙ্গে আপনার এবং আপনার সঙ্গে ওর তুলনা করতে পারব না। প্রতিটা মানুষ তার নিজ নিজ জায়গায়, নিজের মতো করেই সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য। এমনকি আপনিও। তাই আমি আপনাকে… আপনার মতো করেই মেনে নিতে পারব।”
"এবারের টুইস্ট টা মারাত্মক ছিল!!! সহানুভূতির একদম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ধপাস করে পড়ে একটা কথাই মনে হলো ইয়ে দুনিয়া পিত্তালদি!! শুরু থেকে শেষ সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে। সামিরার জন্য খারাপ লেগেছে বেশি, যার নিজের পরিবারই স্বার্থপর হয়, তার জন্য পৃথিবী আরও কঠিন হয়ে যায়। মেহরাবের দায়িত্বশীলতা ও প্রশংসার যোগ্য, অন্তত রুশার স্বামী হিসেবে সে যেমন ছিল, হয়ত এমন স্বামী ই প্রতিটা মেয়ে চাইবে। শুধু একটাই কিন্তু, মেহরাবের ট্রমা কাটানোর সময়টা অনেক কম মনে হয়েছে, যে মানুষ প্রথম স্ত্রীর জন্য এতটা অনুভূতি রাখত, তার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে মাত্র ৫-৭ দিনেই আহ্লাদ করতে যাওয়াটা একটু খটকা লেগেছে। এখানে আরেকটু ডেপথ দেখালে মনে হয় ভালো লাগত। মীরার সাথে আবেগের সম্পর্ক তো হয়নি তখনো, যেটা ছিল কেবল বোঝাপড়া পর্যন্ত। আপনার গল্পের সারল্য বেশ ভালো লাগে। অতি নাটকীয় কিছু যেমন নেই তেমনি অকল্পনীয় কিছুও থাকেনা। এইজন্যই খুব সাবলীল মনে হয়। ❤️"
রহস্যময় রোমান্টিক! কাহিনী এত দারুণ মোড় নিতে পারে!
Read all reviews on the Boitoi app
এবারের টুইস্ট টা মারাত্মক ছিল!!! সহানুভূতির একদম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ধপাস করে পড়ে একটা কথাই মনে হলো ইয়ে দুনিয়া পিত্তালদি!! শুরু থেকে শেষ সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে। সামিরার জন্য খারাপ লেগেছে বেশি, যার নিজের পরিবারই স্বার্থপর হয়, তার জন্য পৃথিবী আরও কঠিন হয়ে যায়। মেহরাবের দায়িত্বশীলতা ও প্রশংসার যোগ্য, অন্তত রুশার স্বামী হিসেবে সে যেমন ছিল, হয়ত এমন স্বামী ই প্রতিটা মেয়ে চাইবে। শুধু একটাই কিন্তু, মেহরাবের ট্রমা কাটানোর সময়টা অনেক কম মনে হয়েছে, যে মানুষ প্রথম স্ত্রীর জন্য এতটা অনুভূতি রাখত, তার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে মাত্র ৫-৭ দিনেই আহ্লাদ করতে যাওয়াটা একটু খটকা লেগেছে। এখানে আরেকটু ডেপথ দেখালে মনে হয় ভালো লাগত। মীরার সাথে আবেগের সম্পর্ক তো হয়নি তখনো, যেটা ছিল কেবল বোঝাপড়া পর্যন্ত। আপনার গল্পের সারল্য বেশ ভালো লাগে। অতি নাটকীয় কিছু যেমন নেই তেমনি অকল্পনীয় কিছুও থাকেনা। এইজন্যই খুব সাবলীল মনে হয়। ❤️
গল্পটা ভালো লেগেছে। তবে আমি ভেবেছিলাম সামীরার মা যেভাবে টাকার জন্য ওকে দ্বিতীয় বিয়ে দিয়েছে আর ডিভোর্স করিয়ে টাকা আদায় করতে চেয়েছে,হয়ত ওর প্রথম ঘরের বাচ্চাটাকে বোধ হয় ওর মাই মেরে ফেলেছিল কিনা।এরকম হলে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কেননা এরকম মানুষ সমাজে অনেক আছে। পরিশেষে গল্পটা খুব ভালো লাগছে।
পড়ে অনেক ভালো লাগলো. সুন্দর গল্প
অসাধারণ লেগেছে, প্রথমে রৃুুশার জন্য খৃুবই মন কাঁদছিলো। কিন্তু পরে কি হলো!!!! আমার ও ছোটছোট দুইটা বাচ্চা আছে। মাফিন এর কথা পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল আমার ই ছেলে। রৃুশাকে ইচ্ছে করছিলো খুৃন করে ফেলি। মনে হয় যেন আমার বাচ্চাকেই মেরে ফেলেছে এমন লেগেছে।
#প্রেমের দ্বৈত অধ্যায় আমি কোনোদিনও রিভিউ লিখিনি প্রথমবার লিখছি জানিনা কেমন হবে ।। বইটই অ্যাপ এ প্রথমবার এই বইটা আমি ঈদের সালামী হিসেবে পেয়েছি । খুব প্রিয় একজন আমাকে উপহার দিয়েছে ।। আমি আজকেই একটানা পুরো গল্পটা পড়লাম আমার এখনও মনে হচ্ছে আমি একটা ঘোরের মধ্যে আছি মীরার চরিত্রটা আমার খুব ভালো লেগেছে । মীরার সাথে এতকিছু হয়ে গেলো তাও সে নিজের শিক্ষা, নীতি কিছুই বিসর্জন দেইনি ।। এই চরিত্রের purity টা আমার ভালো লেগেছে ।। ডিভোর্সের মতো একটা বড় শক এর পরেও সে নিজেকে গুছিয়ে চাকরি করছিল নিজের যোগ্যতায় 🙂 এইটাই বা কয়জন পারে ।। এরকম একটা টক্সিক ফ্যামিলি তে বড় হয়েও সে নিজে টক্সিক হয়নি এটাতে আমি impressed ।। মেহরাব চরিত্রটাও বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে ।। বাট বেডা প্রেমে একটু না অনেকটাই বেশি অন্ধ ছিল 🙂।নির্ভেজাল ভাবে ভালোবাসা মানুষগুলোই দিনশেষে কেমন যেনো ঠকে যায় , এই কথাটাই মনে হচ্ছিল । কিন্তু প্রথম বউ এর সাথে দ্বিতীয় বউ এর প্রতি সে দায়িত্ববান ও যত্নশীল ছিল বেডা মুখে যায় বলুক না কেন 🤭।। আর এই বেডা দোষ করলে sorry বলতে পারে অভিমান গলাতে পারে নিজের ইগো কে সরিয়ে...I like it 😁 মাহফুজ চরিত্র টা বেশ সুন্দর লেগেছে । সত্যি বলতে মীরার পরে মাহফুজের চরিত্রটাই বেশি ভালো লেগেছে । মাহফুজ সত্যের পক্ষে ছিল । সে তার পরিবার তার দাদা সবাইকে জানপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছে সম্মান করেছে । ইভেন তার দাদা তাকে ভুল বুঝে দূরে সরিয়ে দিলেও সে তার দাদার ভালো চেয়েছে ভালো করতে চেষ্টা করেছে বিপদে তার বৌদিকে সাহায্য করেছে ।। সহোদরের প্রতি এরকম ভালোবাসার টান আজকাল সত্যিই বিরল 🙂।। রুশার সম্পর্কে বলতে গেলেই ঘেন্নায় গা গুলিয়ে আসছে ।। বেডি তার ভালোবাসার মানুষকে তো ঠকিয়েছেই তার সাথে নিজের দুধের বাচ্চাটাকে মারতেও তার হাত কাঁপেনি 🙂।। যেখানে কত দম্পতি সন্তান চেয়ে চেয়ে পাই না সেখানে এই ডাইনীটা নিজের হাতে বাচ্চাকে মারল এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কিছুই হতে পারেনা । তার হাজবেন্ড কে ভালো লাগছে না তাহলে সে ডিভোর্স নিজে যাকে পছন্দ তার সাথে যেতে পারত। যদি সত্যিই দ্বিতীয়জন সৎ হতো তাহলে এভাবে সে বেরিয়ে আসতে পারত তা না করে একটা মানুষকে খুন করে একটা মানুষের ভালোবাসার অপব্যবহার করে একটা ফ্যামিলির শান্তি ধ্বংস করে সে সবাইকে ঠকিয়ে গেছে ।। ছি ছি ওদের ফ্যামিলি নিয়েও এবার কিছু না বললেই নয় আমার পার্সোনালি কল্পনা দেবীকে ভীষণ ভালো লেগেছে উনি নিজের পরিবার কে নিয়ে ভেবে গেছেন । পরিবারের কথা ভাবতে গিয়ে একটু স্বার্থপরতা করেছেন বটে , মীরাকে সব সত্যি না জানিয়ে এনেছিলেন তিনি এটা ওনার ভুল । আর কোথাও গিয়ে ওনার দুই সন্তানের মধ্যে হালকা দ্বিচারিতার আভাস পেয়েছি । নিজের ছোটছেলের কথা একবার যাচাই না করেই সবটা ছাড়া বড়ছেলের উপর এটাও তার ভুল হয়েছে । আসলে রুশার মিথ্যে অভিনয়ের জন্য হলেও তিনি তো কাজটা করেছেন না তাই এই খারাপ গুলো চোখে বাঁধছে । কিন্তু সব ছাপিয়ে মীরাকে যেভাবে ট্রিট করেছেন সেটা ভালো লেগেছে । আর মীরার ফ্যামেলি এর মতো ডমিনেটিং ফ্যামিলি যেনো কারোর না হয় । নিজের বিয়ে দিলো তারপর যেই ওদের ইগো তে লাগলো ড্রামা করে ফেরত আনল ছি জাস্ট ছি। স্পেশালি মীরার মায়ের মতো মেয়েদের জন্য মেয়েদের এত ভোগান্তি। জাস্ট টাকার জন্য নিজের মেয়ের বিয়ে দিলেন আবার ভাঙতেও বলছেন যেনো ওনার মেয়ের মতামত এক্সিস্ট ই করে না । আর যে যাই করুক না কেনো নিজের নাড়িছেঁড়া ধনের প্রতি এই আচরণ মানা যায়না । ওর আরও একটু শাস্তি হলে ভালো লাগতো । মীরার বাবাটাও কম বদমায়েশ না । ওনার অসম্মান হলো তো মেয়ের বিয়ে ভাঙ্গো। বাপু বিয়ের আগে খোঁজ নিয়ে যখন স্বেচ্ছায় বিয়ে দিয়েছো তখন মনে হয়নি এসব । মীরার বৌদি তো ভীষণ রকম কালসাপ টাইপ মনে হলো । ওর বোনগুলোও ভালো না । বাট মীরার দাদাকে respectively একটু দায়িত্ববান মনে হয়েছে একটু বুঝদার মনে হয়েছে ।। দেখাতে না পারলেও বোনের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ ছিল তার মধ্যে । সর্বোপরি বলব আমার 2 ঘণ্টা সময় লেগেছে গল্পটা পড়তে আর আমি বলব ওই 2 ঘণ্টায় একটা মুহূর্তও আমার খারাপ লাগেনি 🙂 লেখিকা দিদিভাই কে বলব তুমি আরও লেখো আরও এগিয়ে যাও লেখালেখির হাত ধরে । জানি অনেক লম্বা হয়ে গেলো বাট এই গল্পটা এটা ডিজার্ভ করে ।
Onek valo lagse apnar boi ta.. r aktho boro korle valo hoto amra r aktho porte parttam.. ses hoye jawate kosto laglo... Ami temn akta Shundr review dite pari na
মেহরাব, সামীরা আর রুশার গল্প।