

জীবনের প্রয়োজনে আমরা হয়তো নিজের গ্রাম বা বাড়ি ছেড়ে দূরের কোনো শহর কিংবা সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমাই। কিন্তু আমাদের শেকড় পড়ে থাকে সেই পুরোনো বাড়িতে, প্রিয় বাবা-মায়ের কাছে। বিদেশের নিরাপদ শহরে শুয়ে রাত তিনটায় যখন ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে, তখন প্রতিটি প্রবাসী সন্তানের বুক এক অজানা আশঙ্কায় ধক করে ওঠে—ওপাশ থেকে কি কোনো দুঃসংবাদ এল? আমরা হয়তো মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠিয়ে দিই, কিন্তু বাস্তবতা হলো—টাকা দিয়ে সব কেনা গেলেও মাঝরাতে বাবা বাথরুমে পড়ে গেলে তাকে ধরে তোলার মতো মানুষ কোনো অ্যাপ দিয়ে পাঠানো যায় না। আমাদের পাঠানো রেমিট্যান্স হয়তো বাড়িতে এসি লাগায় বা ফ্রিজভর্তি খাবার নিশ্চিত করে, কিন্তু সেই খাবার গিলতে গেলে যখন একাকীত্বের হাহাকারে গলা আটকে আসে, তখন সেই শূন্যতা কোনো দামী উপহার দিয়ে মোছানো সম্ভব হয় না। এই বইটি কেবল কিছু আবেগী শব্দের সমাহার নয়, বরং এটি প্রতিটি প্রবাসী বা দূরে থাকা সন্তানের পক্ষ থেকে বাবা-মায়ের জন্য এক অদৃশ্য ‘মমতার ছায়া’। লেখক এখানে আবেগকে ধারণ করে অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে একটি ‘ম্যানেজমেন্ট গাইড’ তুলে ধরেছেন। জরুরি মুহূর্তে জীবন বাঁচাতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর সঠিক ব্যবহার, বাড়িতে একটি ‘ফাইল অব লাইফ’ বা জরুরি মেডিকেল রেকর্ড গুছিয়ে রাখা, কিংবা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাবা-মায়ের একাকীত্ব দূর করার মতো বিষয়গুলো এখানে সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি আইনি জটিলতা বা আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নমিনি আপডেট ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও লেখক অত্যন্ত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন, যেন আপনার অনুপস্থিতিতেও বাবা-মায়ের সম্মান ও নিরাপত্তা অটুট থাকে। যারা জীবিকার তাগিদে বাবা-মায়ের কাছ থেকে শত-সহস্র মাইল দূরে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এই বইটি সংগ্রহে রাখা একপ্রকার অপরিহার্য। এটি আপনাকে শেখাবে কীভাবে ‘গল্প’ করার মাধ্যমে ফোনালাপকে থেরাপির মতো কার্যকর করে তোলা যায়। কিংবা কীভাবে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দাদা-দাদি বা নানা-নানির এক দৃঢ় আত্মিক বন্ধন তৈরি করা সম্ভব হয়। ক্যারিয়ার গড়ার ইঁদুর দৌড়ে আমরা প্রায়ই ‘আগামীবার এসে সব করব’—এই মরীচিকার পেছনে ছুটি। কিন্তু সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আপনার মমতার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং প্রিয় মানুষগুলোর বার্ধক্যকে নিরাপদ ও আনন্দময় করতে এই বইটি হবে আপনার বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক।
"দুইদিন হলো বইটি কিনলাম ভালোভাবে বইটি পাঠ করলাম আসলে বর্তমান সমাজে আমরা বাবা-মার প্রতি যে দায়িত্ব কর্তব্য থাকে তা তো ভুলেই গেছি ভালোবাসা তো পরের কথা এই বইটি পড়ার পরে বাবা মার প্রতি যে দায়িত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে সেটি যে আমাদের পালন করতে হবে তা মনে করিয়ে দিল 🥰🥰"
দুইদিন হলো বইটি কিনলাম ভালোভাবে বইটি পাঠ করলাম আসলে বর্তমান সমাজে আমরা বাবা-মার প্রতি যে দায়িত্ব কর্তব্য থাকে তা তো ভুলেই গেছি ভালোবাসা তো পরের কথা এই বইটি পড়ার পরে বাবা মার প্রতি যে দায়িত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে সেটি যে আমাদের পালন করতে হবে তা মনে করিয়ে দিল 🥰🥰
Read all reviews on the Boitoi app
বাবা-মাকে ছেড়ে প্রবাসে পরে আছি ৩ বছর হলো। সব সময় দুশ্চিন্তা হয়, বিপদ আপদে কি করবো, কিভাবে সামাল দিবো। এই বইটায় আপদকালীন সময়টা সামাল দেয়ার বিষয়ে গাইড বই এর মতো বুঝিয়ে বলা আছে। আমার ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ