

মোবাইলে বিয়ে হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও আমার স্বামী ইকবাল দেশে আসেনি। সে যে আসতে চায়নি তেমন নয়। তার আসার ইচ্ছা প্রবল থাকলেও তার পরিবারের চাহিদা ছিল বিশাল। সেই চাহিদা পূরণ করে ইকবালের দেশে আসা হচ্ছিল না। ইকবাল ছিল মেজ ছেলে। আমার বড় ভাসুর, ছোট দেবর আর একটা ননদ ছিল। ননদ তখন ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছিল। আমাদের বিয়েরও প্রায় আট বছর আগে ইকবাল সৌদি গিয়েছিল। আমাদের যখন বিয়ে হয় তখন ইকবালদের বিশাল পাকা বাড়ির কাজ চলছিল। বিয়ের পর সে বাড়ির কাজ শেষ হতেই ইকবাল আসতে চাইল। শ্বশুর-ভাসুর বললেন, 'বাড়ি করতে অনেক দেনা হয়েছে, সেসব শোধ না করে দেশে আসবে কীভাবে?' দেনা শোধ হলো। ইকবাল দেশে আসতে চাইল। ভাসুর বলল, তার কাজ ভালো চলছে না; তাকে একটা ছোটখাটো মুদি দোকান দিয়ে দিতে। সে সেটা চালাবে। ইকবাল তার দোকানের জন্য সাত লাখ টাকা দিল। সে দোকান দিল। ইকবাল আবার বাড়ি আসতে চাইল। সবাই বলল ওর ছোট ভাইকেও সৌদি নেওয়ার ব্যবস্থা করতে, তারপর দেশে আসবে। ইকবাল গাধার মতো খেটে খেটে তাদের ফরমায়েশ পূরণ করত। সবার ফরমায়েশের মধ্যে আমার চাওয়া-পাওয়া ছিল সবার কাছে তুচ্ছ, এমনকি ইকবালের কাছেও। যেন আমি কোনো মানুষই না। বিয়ের পর স্বামীসঙ্গ না পেলেও শ্বশুরবাড়ির কূটনীতির ষোলোআনা দেখেছি আমি। শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদের কথার মারপ্যাঁচে বহুবার ফেঁসে গিয়েছি। এ বাড়িতে আমার প্রয়োজন কেবল ঘরের কাজে। আমার স্বামী আমার হক আদায় করতে না পারলেও তার বিধিনিষেধের অন্ত ছিল না। 'এটা করো না, ওটা করো না। এটা কেন করছ? ওটা কেন করছ না?'—এমনকি গালিগালাজ করে বিশ্রী ভাষায় কথা বলত। তাছাড়া তাদের অত্যাচারে আমি বাধ্য হয়ে আমার বিবাহ বাতিল অর্থাৎ 'ফাসখে নিকাহ' করার সিদ্ধান্ত নিই।
golpo ta sundor chilo onek
Read all reviews on the Boitoi app
Choto golpo but khub khub khub sundor
ভীষণ ভালো লাগলো। ফাসখে নিকাহ সম্পর্কে আগে একটু একটু শুনলেও গল্পটা পড়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম। ৭ নাম্বার পর্বে ইমদাদের জায়গায় ইসমাইল হয়ে গেছে।আর ৯ নাম্বার পর্বে ছোট্ট একটা টাইপো আছে। ছোট্টো মধ্যে গল্পটা শিক্ষণীয়।