

শাশুড়ি-ভাগ্য বেজায় মন্দ ছিল তাওফিকার। বিয়ের পরদিনই গোসলে গিয়ে সোনার চেইন খুলে রেখেছিলেন, সেই চেইন হারানোর খোঁটা শাশুড়ি পুরো জীবদ্দশায় দিয়ে গেছে তাকে। অথচ চেইনটি তার বাবার টাকায় কেনা, ঘরের বাথরুম থেকে বাইরের মানুষের চুরি করার কথাও নয়। সে হিসেব অবশ্য মেলেনি। প্রাণের শাশুড়ি-ভাগ্য মায়ের মতো হয়নি। সে যথেষ্ট আদরেই রয়েছে। তাহেরা বানু অসুস্থ হওয়ার পরও সব দায়িত্ব প্রাণের ঘাড়ে ফেলেননি। শামসুল হককে বলে রান্নার লোক রেখেছেন। বাড়ির বাকি দায়িত্বের জন্য আলাদা লোক রাখতে চাইলেও প্রাণ রাজি হয়নি। মানুষ তো মাত্র কয়েকজন—রান্নাবান্না ছাড়া কাজ তেমন কী-ই বা আছে! রান্নার কাজ যখন একজন করছেই, বাড়িটা সে ঠিক সামলাতে পারবে। বলতে সহজ হলেও কাজ অবশ্য কঠিনই। প্রাণের ঘরের কাজের অভ্যাস কম। সময় করে ঘরদোর দুইবেলা ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া-মোছা, রান্নার লোকের কাজে হাত লাগানো—একটুখানি হলেও গৃহস্থ বউয়ের মতো ব্যস্ততা হয়েছে তার। নিয়ম করে আবার শাশুড়ির সেবাটাও মন দিয়েই করে সে। ওষুধপত্র খাওয়ানোর বেলায় অন্য কাউকে লাগে না। ব্যস্ততা বেড়ে অসুবিধা বিশেষ কিছু হয়নি। মন্দের মধ্যে একটাই সমস্যা—ঘুম। রাতে সহজে ঘুমাতে পারে না প্রাণ, আবার ঘুমালেও কেমন অদ্ভুত শব্দ বাজে কানে। পার্থিবের সাথে দূরত্বটাও ক্রমশ বেড়েছে। অবশ্য যে সম্পর্কের শুরুই হয়েছে জেদ আর রাগ থেকে, সেখানে দূরত্ব বাড়তে বাড়তে সমুদ্র তৈরি হলেও বা কী! প্রাণের অবশ্য মাঝে মাঝে মন উদাস হয়ে পড়ে। অতীতের স্মৃতি যন্ত্রণা দেয়। কী নিদারুণ প্রেমের অভিনয় করে গেছে ছেলেটা! টাকাটা কোনো ব্যাপার ছিল না, উদ্দেশ্য ছিল প্রাণকে কষ্ট দেওয়া—ছেলে মানুষের ইগো! কই, সেদিন রাস্তায় প্রাণ তো কিছু বলেনি—মায়ের দুটো কথার হিসেব প্রাণের অনুভূতির ওপর দিয়েই কেন গেল?
