

অত্র গ্রন্থ সম্পর্কে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি যে, ফেসবুকে প্রকাশিত অত্র ধারাবাহিক আলোচনাটি ইতিহাসের কতক ঘটনা ও বাস্তবতা সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা। এ আলোচনার লক্ষ্য যা হয়েছে, তার পরিবর্তে অন্য কিছু হলে তার ফলাফল কী হতে পারত, তা-ই তুলে ধরা। যে ক্ষেত্রে ইসলামের প্রসঙ্গ এসেছে, সে ক্ষেত্রে ইসলামের অনুকূলে যা হতে পারত, তা-ই লেখকের কাম্য; কিন্তু যে ক্ষেত্রে যা হয়েছে ও যা হতে পারত—তার কোনোটাই ইসলামের অনুকূলে নয়, সে ক্ষেত্রে শুধু এটাই দেখানো উদ্দেশ্য যে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি বা মহলের ভুলের কারণে তাদের কী ক্ষতি হয়েছে এবং তাদের জন্য কী করলে লাভজনক হতো। অত্র গ্রন্থে যে সব ঘটনার বিশ্লেষণ করেছি, সেগুলোর প্রায় সবই ইতিহাসের মশহূর ঘটনা; তাই তা কোনো বিশেষ তথ্যসূত্র থেকে নয়, বরং অতীতের অধ্যয়ন থেকে নিয়েছি। অবশ্য কতক তারিখ ও পরিসংখ্যানের ব্যাপারে ইন্টারনেট থেকে সাহায্য নিয়েছি। তবে জামা‘আতে ইসলামী ও আইডিএল সম্পর্কে যা কিছু লিখেছি, তা আমার অভিজ্ঞতা থেকেই। কারণ, আমি ১৯৬৯-এর শেষ দিক থেকে এ দলটির সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজের ঘনিষ্ঠ প্রত্যক্ষদর্শী। অধ্যাপক গোলাম আযম ও মওলানা এ. কে. এম. ইউসুফের সাথে আমার সাক্ষাৎ ১৯৬৯-এর ডিসেম্বরে। মওলানা আবদুর রহীম (র.)-এর সাথে আমার নিয়মিত সাক্ষাৎ ১৯৭০-এর মাঝামাঝি সময় থেকে। আমি জামা‘আতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামে ১৯৭৭-এর জানুয়ারি থেকে ১৯৭৯-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত এবং মওলানা আবদুর রহীম (র.)-এর পত্রিকা সাপ্তাহিক জাহানে নও-এ ১৯৭৭-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৮৪-এর শুরুর দিক পর্যন্ত সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। অধিকন্তু, আমি ১৯৭৯-এর আগস্ট থেকে ১৯৮৪-তে ইরানে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল)-এর (পরে যার নাম রাখা হয় ইসলামী ঐক্য আন্দোলন) ঢাকা মহানগরী প্রচার সম্পাদক এবং ১৯৯২-এর এপ্রিলে ইরান থেকে ফিরে আসার পর হতে ২০১১ পর্যন্ত ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলাম। এছাড়া জামা‘আতের কেন্দ্রীয় নেতা মওলানা মতিউর রহমান নিযামী, আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, আব্বাস আলী খান ও আরো অনেক জামা‘আত-নেতার সাথে আমার ব্যক্তিগত ওঠাবসা ছিল। এ গ্রন্থের আলোচনার বেশির ভাগই জামা‘আত-সংক্রান্ত, এবং তার কারণ বিষয়বস্তুর দাবি এটাই। কিন্তু দেশের বৃহত্তম ইসলামী শক্তি হিসেবে জামা‘আত সম্পর্কে আমার সমালোচনা শুধু সংশোধনের উদ্দেশ্যে।