

"সুন্দর অসম্ভব সুন্দর! মান অভিমানে দূরত্ব বাড়ে, দূরত্বে হয় বিচ্ছেদ। নিজের অনুভূতি বুঝতে এত দেরি করলো দুজনে। যাক গে, শেষ ভালো যার সব ভালো। হৃদপিন্ডটা গলার কাছে চলে আসছিলো, একটুর জন্য বাঁচালেন একা আপু 🥰🥰🥰"
"প্রিয় অচিনপুর, আমি চিঠি। কথার চেয়ে চিঠি লিখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। উপস, নেভার মাইন্ড! এই স্বাচ্ছন্দ্য সে-ই স্বাচ্ছন্দ্য না। মানে আপনি না। আপনার নামটাই স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু আপনি কাউকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে ব্যর্থ। তা না হলে চিঠি লিখতে বসতাম কেন? ও হ্যাঁ, চিঠি লিখতে বসে মনে পড়ল, এই চিঠি আপনি যখন পড়বেন, তখন আপনার হতে অনেক দূরে থাকব আমি। আপনার কাছে আশ্রয় চেয়েছি, আতঙ্ক না। রাতদিন মিলিয়ে এই দুটো বেলা আতঙ্ক বৈ আপনার সান্নিধ্যে থাকাকালীন ব্যতিক্রম কিছু পাইনি। দুপুরে খেতে বসে কেমন রক্ত হিম করা কোল্ড ভয়েসে বললেন, "আপনার ভাই দুলালের সঙ্গে হবু ভাবীর বিয়ে হয়েছে। জামাল ঢাকায় ফিরে গেছে। আপনি এখন নিরাপদ। চাইলে ঘরে ফিরে যেতে পারেন।" কী নিষ্ঠুর ছিল আপনার অভিব্যক্তি, বাচনভঙ্গি। আমি নিতে পারিনি। খেতে বসে আপনার সাথে কথা হলো না আর। এইটুকু বুঝেছি, আপনি আমাকে তাড়াতে পারলে বাঁচেন। খেয়ে উঠে কী বললেন যেন? "একটা জরুরি কাজে বাইরে যাচ্ছি। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হবে। আপনি রেস্ট নিন। সন্ধ্যায় কথা হবে।" কী কথা হবে শুনি? কী কথা আছে আপনার সঙ্গে? এ-ই না বললেন, চাইলে চলে যেতে পারি! আমার চলে যাওয়ার জন্যই বুঝি বাড়িতে খোঁজ লাগিয়েছিলেন? যদি জানতাম আমিই বোঝা হয়েছি, কখনই সাহায্য চাইতাম না। অচেনা গণ্ডিতে আশ্রয় হবে না, জানা ছিল না। তিতা-মিঠা অভিজ্ঞতার স্বাদ করানোর জন্য থ্যাংক ইউ, মিস্টার অচিনপুর। জানেন, শ্বাস আটকে আসছিল আপনি চলে যাওয়ার পর। চারদিক কেমন শ্মশান-সুনসান নিস্তব্ধতা। আমি একান্নবর্তী পরিবারে বড় হয়েছি। ভৌতিক নীরবতা সহ্য করতে পারি না। বাড়ি ফিরে যাব কিনা জানা নেই। আরও দুটো দিন কোথাও মাথা গুঁজে থাকব হয়তো। তারপর বাড়ি ফিরব। But now I really don’t know where I'm going. Bye, Mr. Your sincere, Disturbing girl.... চিঠি" কাগজের চিঠিটা দুমড়ে-মুচড়ে মুঠোর ভেতর পুরে নিল স্বাচ্ছন্দ্য। বুকের ভেতর সর্বহারা দামামা বাজছে। ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি চিঠি সত্যি চলে যাবে। দুপুরে খেতে বসে চিঠির ভয়ার্ত মুখ দেখে ওকে কমফোর্ট ফিল করানোর অর্থে বলেছিল, ইচ্ছে হলে চলে যেতে পারে। ও যে চলে যাবে, একটু যদি বুঝত, স্বাচ্ছন্দ্য বুকের খাঁচায় বন্দী করে রেখে দিত চিঠি নামক অবাধ্য বেয়াড়া শ্বেতশুভ্র পায়রাটিকে। দ্রুত ডায়াল করল চিঠির নাম্বারে। দুটো রিং হতেই রিসিভ হলো। অপর পাশ হতে ভেজা ভেজা মিহি স্বর ভেসে এল। —বাসায় ফিরেছেন? —হুম। Where are you? Send your address, hurry up. স্বাচ্ছন্দ্যের কোল্ড ভয়েস টোন কিলোমিটারের দূরত্বে নকশিকাঁথার নিচে ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকা চিঠির রূহ কাঁপিয়ে দিল।
সুন্দর অসম্ভব সুন্দর! মান অভিমানে দূরত্ব বাড়ে, দূরত্বে হয় বিচ্ছেদ। নিজের অনুভূতি বুঝতে এত দেরি করলো দুজনে। যাক গে, শেষ ভালো যার সব ভালো। হৃদপিন্ডটা গলার কাছে চলে আসছিলো, একটুর জন্য বাঁচালেন একা আপু 🥰🥰🥰
Read all reviews on the Boitoi app
আগাগোড়া রোমান্টিক থ্রিলারে মোড়ানো বই প্রিয় অচিনপুর। মুল চরিত্রের সাথে পার্শ্ব চরিত্র গুলো অসাধারণ। এক নিশ্বাসে পড়ার মতো একটা বই। লেখিকা একা আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ মনের মতো একটা গল্প লেখার জন্য। শুধু প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা নয় স্বামী স্ত্রী বাবা মা সন্তান প্রত্যেকের একে অন্যর প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ উঠে এসেছে বইটিতে। ভীষণ ভালো লেগেছে বইটা।
এই ই-বুক পেয়ে মনে হলো কতদিন পর একটা ই-বুক পেলাম। ভীষণ ভীষন আদুরে, একটু রহস্য আর বাবা গো বাবা রোমান্সে ভরপুর। এই চিঠিকে পড়ে যেমন মনে হয়েছে ঐ বয়সে ফেরত গিয়ে সব দুষ্টুমিগুলে করে আসি। আবার স্বাচ্ছন্দ্য কে পড়ে কি যে মিস করেছি জীবনে এমন উফ্ বলা প্রেম কি এসেছিল! না কি এই ছেলেকেই প্রেমের জন্য লুকিয়ে রাখার দরকার সবার থেকে। কেমন করে বললো- “কাছে এসো মেয়ে “— ইশ মনে হলো সবাই বাদ, আমিই চলে যাই। ভালোবাসার চোরাগলি মনের কোন অচিনপুরে, তার ঠিকানায় চিঠি পৌঁছে দেওয়া হৃদয়ের স্বাচ্ছন্দ্য যেনো কোথাও না হারায়।
সহজ সরল সাবলীল ভাষার ব্যবহার ,সেই সাথে প্রতিটা চরিত্র সুন্দর ভাবে ফুটে আছে ।মিষ্টি একটা প্রেমের গল্প ,মনে লেগে থাকে এমন একটা গল্প ♥️♥️♥️♥️
ইয়া আল্লাহ্! রোমাঞ্চকর তো বটেই দারুণ রোমান্টিক হয়েছে উপন্যাস!!আর লেখিকা আপুর গল্প মানেই সাসপেন্স, রহস্য, এডভেঞ্চারাস হবেই। এতো আকর্ষণীয় লেগেছে যে এক বসাতেই শেষ করেছি। কখনো কখনো হুট করে আসা বাতাসের সুগন্ধও জীবনে স্নিগ্ধতা বয়ে আনে। ভালোবাসার সংজ্ঞা তো একেকজনের কাছে একেক রকম। শুধু দরকার সঙ্গ, হাত না ছাড়ার প্রতিজ্ঞা। পবিত্র বন্ধন তো এমনই। চিঠিকে পড়তে ভীষণ মজা পেয়েছি, এত্তো হেসেছি। উফ্ এই মেয়েটা... বইয়ের একটা লাইন দিই,, —“উপস্ নেভার মাইন্ড! এই স্বাচ্ছন্দ্য সে-ই স্বাচ্ছন্দ্য না।” দুষ্টু মেয়ের চঞ্চলতায় নাস্তানাবুদ রহস্যময় কঠিন ছেলেটি? আর “প্রিয় অচিনপুর ” বা কে? ব্ল্যাক মাস্ক পরিহিত কে সেই স্নাইপার শ্যুটার? প্রিয় অচিনপুর কি পারবে স্বাচ্ছন্দ্যেই চিঠিকে পড়তে নাকি তার আগেই কোনো ঝড় এসে সব লন্ডভন্ড করে দেয়!? দু'টি নাজুক হৃদয় কাছাকাছি এসেও কি দূরে যাবে,নাকি এক ঝলকের ভালোবাসার সিলমোহর হৃদয়ে গেঁথে যায়? কী দারুণ লাগলো! রোমান্টিক শ্বশুর যেখানে, সেখানে তো এই হবারই কথা।।প্রতিটি চরিত্র, শব্দের বুনন অসাধারণ লেগেছে।
ভীষণ আদুরে মিষ্টি একটি বই।দুষ্ট মিষ্টি প্রেমেরে গল্প যেমন হয়।এই সাচ্ছন্দ্য ও চিঠিকে যেনো নতুন করে বুঝতে শিখলাম,মনে হলো এই সাচ্ছন্দ্যের প্রেমে পড়ার মতো। পারিবারিক এক কলহ,চারদিকে শত্রুদের ছড়াছড়ি সব মিলিয়ে প্রচন্ড রোমান্টিক থ্রিলার উপন্যাসটি উপভোগ করার মতো।পড়ে মনে হলো একচ্ছত্র শান্তি অনুভব করছি।
প্রিয় অচিনপুর উপন্যাসে লেখিকার সৃষ্ট চরিত্রগুলা একেকটা মায়ার জাদু। আর আমাদের লেখিকার অনবদ্য লেখনি ও সাবলীল অনুভূতি প্রকাশ। তাই আমাদের একুবিবিকে ভালোবাসা অবিরাম 💙🤍💙❤️