

মানুষের জীবনের প্রথম পাঠ ছিল- খাদ্য। তাই কৃষি ছিল বেঁচে থাকার অপরিহার্য অন্বেষণ। কিন্তু কৃষির প্রাণ ছিল পানি। সেই সত্য উপলব্ধি করেই মানুষ নদীর তীরের উর্বর সমতলে গড়ে তুলল প্রথম বসতি, হয়ে উঠল কৃষিজীবী। কিন্তু প্রকৃতি কখনও মমতাময়ী, কখনও কঠোর। বন্যা ও খরা যখন ফসলের শত্রু হয়ে দাঁড়াল, তখন মানুষ শিখল প্রতিরোধ করতে। তারা নির্মাণ করল বাঁধ, আবিষ্কার করল সেচ। এসব উদ্যোগ এককভাবে সম্ভব ছিল না- প্রয়োজন ছিল সমবেত শক্তির, সুসংগঠিত সমাজের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে রাজ্যের জন্ম। সেই সুদূর অতীতে, মানুষ পানির সাথে গড়ে তুলল বহুমুখী সম্পর্ক। নদী হয়ে উঠল যাত্রাপথ- নৌকা ছিল তার সেতুবন্ধন। মাছ ধরা হলো খাদ্যের যোগান, আর নদীর পানিকে ব্যবহার করা হলো সেচ ব্যবস্থায়। চীনের হুয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং নদী অববাহিকায় হাজার বছরের পরম্পরায় গড়ে ওঠা কৃষিভিত্তিক সভ্যতা আজও মানবসভ্যতার অন্যতম সুতিকাগার হিসেবে আলো ছড়ায়। সিচুয়ানের সেচ প্রকল্প টানা আঠারো শতাব্দী ধরে কাজ করেছে- এ যেন মানুষের অধ্যবসায় ও পানির সাথে সহাবস্থানের মহাকাব্য। গ্রিকদের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, চীনের সেচ কৌশল, আর রোমানদের দৃষ্টিনন্দন জলাধার- সবই প্রাচীন জলনির্ভর সভ্যতার গৌরবগাথা।