

তাকে সেই প্রথম দেখাতেই হৃদয়ে কেমন একটা অনুভূত হয়। এরপর আরও কয়েকদিন তাকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে দেখলাম। মেয়েটির সম্পর্কে জানার আগ্রহ বেড়ে গেল। মন বলে জানতে ক্ষতি কী? মাথা বলে ঝামেলা হবে, বাদ দে। মাথা আর মনের সাথে যুদ্ধে মাথা হার মেনে নিয়েছে। আমি গোপনে তার খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারলাম, নাম সানজিদা চৌধুরী। বাবা-মায়ের বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি, তবে সে আমার দোকান থেকে একটু সামনেই যেই স্কুলটি আছে, সেখানে ক্লাস নাইনে পড়ে। মনে মনে ভাবলাম, ছিঃ ছিঃ রাফাত! তুই কিনা অবশেষে বাচ্চা একটা মেয়ের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছিস! সময় যেতে থাকে, ভাবনার সমীকরণ বদলে যায়। এক সময় যে মন ছিঃ ছিঃ করছে, সেই মনে উঁকি দেয় স্কুল ড্রেস পরা দুই জুটির মেয়েটির ছবি। দিনের পর দিন চলে যায়, আর আমি তার প্রতি আরও ঝুঁকে পড়ি। সে যখন রাস্তা পার হতো, তখন দোকানে বসেই আমি সেদিকে তাকিয়ে থাকতাম। কখনো কখনো তো নিজের অজান্তেই আমার চোখ রাস্তার দিকে চলে যেত। মোহগ্রস্ত নয়নে তাকিয়ে থাকতাম—নিজেও বুঝতাম না, কথা না বলে, শুধু এক ঝলক দেখে আমাকে এ কোন আসক্তিতে ঘিরে ধরেছে। মেয়েটি কখনও আমার দোকানে ভুলেও আসতে দেখিনি। তার সাথে যারা রাস্তা পার হয়, তারা অনেকেই আমার দোকান থেকে টুকটাক কিছু না কিছু কেনে। শুক্রবার ও শনিবার তার স্কুল বন্ধ থাকে। সে দিনগুলো কেমন ফিকে লাগতে শুরু করে। যেখানে বন্ধের দিন দোকানদার হিসেবে খুশি হওয়ার কথা ছিল আমার—বেচাবিক্রি বন্ধের দিন বেশি হয়—সেখানে দোকানে বসে বারবার চোখ পড়ত ব্যস্ত রাস্তায়, কিন্তু তার এক ঝলক না দেখে হতাশ হতাম। তবে সপ্তাহে আর পাঁচ দিন ঠিকই চোখের তৃষ্ণা দূর করতে ভুল হয় না আমার। দিনগুলো এভাবেই কাটছিল। এর মধ্যে একদিন বাসার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দূরে তার আবছায়ার মতো দেখলাম মনে হলো। হয়তো আমি ভুল দেখেছি—সে এখানে আসবে কোথা থেকে! তার ভাবনায় কিভাবে কেটে গেছে দুই মাস, তা বুঝতে পারলাম না। এখন আমরা ছোট একটা ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকি। আগের টিনসেট বাসা ছেড়ে এখানে এসেছি এক বছর হয়েছে। এমনিতে আমি দুপুরে বাসায় এসে খেয়ে খুব একটা দেরি করি না। কারণ আমার দেরি হলে বাবার খেতেও দেরি হবে—এমনিতেই বাবা অসুস্থ মানুষ, বেশি দেরি হলে সমস্যা হবে। এই চিন্তাটা মাথায় সর্বদা ছিল। রাফাত সেদিন দুপুরের খাবার শেষ করে রুমে এসে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ চোখ পড়ল সামনের দালানের তিন তলায়। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক রমণীর অবয়ব দেখে বুকটা তার হঠাৎ কেঁপে উঠল। এর মানে সেদিন সেই ছিল! যাকে দেখে রাফাতের মনের ভ্রম মনে হয়েছিল, কিন্তু তা আসলে ভ্রম নয়—সত্যি! সানজিদার মতোই তো দেখা যাচ্ছে… রাফাতরা থাকত দুই তলায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার ভালো করে তাকাল। তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে—এ কি সত্যি, না চোখের ভুল? কয়েক মুহূর্ত পর আর সন্দেহ রইল না। ওটা তার স্বপ্নকন্যা—সানজিদা। এক জীবনে সবাই কি সবকিছু পায়! বামুন হয়ে চাঁদ ধরতে হাত বাড়ালেই চাঁদ ছোঁয়া যায় না, বরং হাত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। থাকুক না তার প্রতি আমার ভালোবাসা একান্ত আমার মনের মণিকোঠায়। নিজের অপূর্ণ ভালোবাসাকে বুকের গভীরে দাফন করে মায়ের সেই শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ করতে নেমে পড়লাম। মনে একজনকে রেখে জীবনে নতুন করে কাউকে জড়ানোর ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আমি যে অপারক! তবে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার জীবনে যে আসছে, তাকে কখনো অবহেলা করব না। অনাড়ম্বরভাবে আমাদের বিয়ে হলো। মনের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে আপন করার চেষ্টায় নেমে পড়লাম। আমাদের মনের মিলন না হলেও শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি হলো..... রাফাতের অপূর্ণ হৃদয়ে তার বউ কি পারবে নিজের জন্য জায়গা করতে? জানতে পড়ুন, অপূর্ণ ভালোবাসা।
গল্পটা ভালো লাগল।
Read all reviews on the Boitoi app