

আয়রা চমকে উঠল। বুকটা ছ্যাত করে উঠল তার। সে কম্পিত গলায় বলল, -'কেন? আমাকে বিদায় করে দিচ্ছেন? আমি, আমি আসলে তখন রাগের মাথায় যা-তা বলেছি। আমি বুঝতে পারিনি আপনি—' নাহিয়ান এবার ঘুরল। তার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। তবুও কেমন একটা চাপা রাগ লক্ষণীয়। সে আয়রার কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়াল। আয়রার বাহু সজোরে চেপে ধরল। টেনে তাকে খুব কাছে নিয়ে এল নিজের। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে হিসহিসিয়ে বলল, -'বুঝতে পারোনি? কী বুঝতে পারোনি, আয়রা? একজনকে এতগুলো কথা বলার আগে কি তোমার উচিত ছিল না যে কী বলছ বা করছ তুমি? আদতেও আমাকে কতটা চেনো তুমি? আমায় জানোয়ার বললে, অমানুষ বললে। এমনকি আমার স্পর্শেও নাকি তোমার ঘিনঘিন করছিল। মনে আছে?' আয়রা মাথা নিচু করে রইল। চোখের জল টপটপ করে গাল বেয়ে নিচে পড়ছে। নাহিয়ান আয়রার চিবুক ধরে মুখটা উঁচিয়ে ধরল। তার তপ্ত নিঃশ্বাস আয়রার নাকেমুখে লাগছে। সে ফের বলল, -'কী ভেবেছিলে? আমি গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলা কোনো ব্যক্তিত্বহীন লোক? শোনো আয়রা, এই ত্রিশ বছর বয়সে আমি একটা জিনিসই কামাই করেছি, সেটা হলো আত্মসম্মান। আমার বউয়ের সম্মান মানে সেটা আমারই সম্মান। তোমাকে বাঁচিয়েছি মানে এই নয় যে তোমার সব অন্যায় আমি ভুলে গেছি।' আয়রা ফুঁপিয়ে উঠে নাহিয়ানের পাঞ্জাবি খামচে ধরল, -'প্লিজ... আমাকে মাফ করে দিন, নাহিয়ান!'