
পথের অবহেলায় পরিচয়বিহীন গড়ে ওঠা একটি শিশু, যার নিজের নামটুকুও জানা ছিল না। এক ভিখারিনী তাকে ময়লার ভাগাড় থেকে কুড়িয়ে পায়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যার যেমন মর্জি, গালি দিয়ে নাম দিয়ে যায়। কিন্তু তার সে নামগুলো ভালো লাগত না। অবশেষে নিজেই কোথা থেকে যেন একটি নাম জোগাড় করে—বল্টু। তার আশপাশের সকলে তাকে টোকাই বলে, আবার কেউ বলে সে পাপের সন্তান। অন্যের পাপ বলেই নাকি তার বাবা-মা তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। পেটের ক্ষুধার চেয়েও বল্টুর জন্য মুখ্য ছিল তার “টোকাই” ও “পাপ মানুষ” বিষয়টির জবাব। কে দেবে তার জবাব? সে কাউকে জিজ্ঞেস করলে সকলে তাকে তিরস্কার, ভর্ৎসনা করে, নয়তো মারে। তাই সাহস পায় না। যতই বড় হতে থাকে, তার মায়ের আকাঙ্ক্ষা চরমে পৌঁছে যায়। তার সাথের সবার বাবা-মা আছে, কিন্তু তার নেই। তাই সে কল্পনার জগতে নিজের মাকে গড়তে শুরু করে। এক চাকরিজীবী অংশুর সঙ্গে পরিচয় হলে সে তাকে তার মা আঁকা শেখায়। আর তারপর থেকেই তার মায়ের তৃষ্ণা কল্পনার জগতকে বাস্তবতা ছাড়িয়ে বহুদূর এগিয়ে যায়। মায়ের আকাঙ্ক্ষা তাকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যায়? তার প্রশ্নগুলোর সমাধান কী? কীভাবে সে মায়ের স্নেহ পায়—সেটাই উপন্যাসের মূল পটভূমি।