
আমাদের বাড়ির উঠানে আজ পারিবারিক শালিস বসেছে। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু—আমার সঙ্গে আমার দেবরের বিয়ে। আমার চেয়ে বয়সে দশ বছরের ছোট দেবর আমাকে বিয়ে করতে চায়, কিন্তু আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। আর এই নিয়ে সে খুব ঝামেলা করছে। যে করেই হোক, সে আমাকে বিয়ে করবেই। ইরহাম সর্বসম্মুখে বলল, “আমি আলো ভাবিকে বিয়ে করতে চাই। মরিয়ম আর আলোর দায়িত্ব নিতে চাই।” উপস্থিত সবাই কিছু মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল ওর মুখপানে। চাচাশ্বশুর বললেন, “আলো তো তোর ভাইয়ের বউ। বয়সেও তোর চেয়ে অনেক বড়।” “তাতে কী? আম্মা খাদিজাও তো মহানবীর থেকে বয়সে কত বড় ছিলেন। আর বিধবার দায়িত্ব নেওয়া তো সাওয়াবের কাজ। আপনারা বিয়ের ব্যবস্থা করুন।” ওর কথায় সবাই এতটাই বিস্মিত যে কিছু মুহূর্ত চুপ করে ছিল। আসলে একটা আঠারো-উনিশ বছরের ছেলের মুখে এমন কথা খুবই বেমানান। এবার চাচাশ্বশুর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “বলো মা, তোমার কী মতামত? তুমি কি ইরহামকে বিয়ে করতে চাও?” আমি বললাম, “আমার যখন বিয়ে হয়, তখন ইরহাম এইটুকু ছিল। আমি ওকে সন্তানসমতুল্য ছোট ভাই মেনেছি সেই থেকে। সেই ছেলে আজ বড় হয়ে তার ভাইয়ের অবর্তমানে তার স্ত্রীর দিকে কুনজর দিচ্ছে। মায়ের সমতুল্য ভাইয়ের বউয়ের দিকে খারাপ নজর দিচ্ছে। আর আপনারা জানতে চান আমার মতামত কী? তবে শুনুন, আজ এই মুহূর্ত থেকে আমি ওকে আমার সন্তান স্বীকার করলাম। যদিও এটা ঠিক নয়। কিন্তু ও আমার সন্তানের মতো। এখন বলুন, সন্তানের সঙ্গে মায়ের বিয়ে কীভাবে দেবেন? আমি মরে যাব, কিন্তু ওকে বিয়ে করব না।” আমার কথা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেলেও ইরহাম বিদ্রোহী কণ্ঠে বলে উঠল, “উনি বললেই আমি তার ছেলে হয়ে যাব না। আমি তাকে বিয়ে করবই—সে যে কোনো উপায়ে। সে আপোষে মানলে আপোষে বিয়ে হবে, নয়তো জোর করে হবে। তাকে পাওয়ার জন্য আমি যে কোনো ধরনের অন্যায় করতে রাজি।”