

উপমা ভীষণ অপমানিতবোধ করল শায়ানের এই আচরণে। নিজের স্ত্রীকে ছোঁয়া কি পাপ? তাকে ভালোবাসা কি অন্যায়? যদি না-ই হয়, তাহলে শায়ান কেন তাকে গুরুত্ব দেয় না? কেন তাকে ছোঁয় না? কেন তাকে ভালোবাসে না? কীসের জন্য? বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে উপমা প্রশ্ন করল, “আমি তোমার স্ত্রী, শায়ান। আমাকে ছুঁলে পাপ হবে না। তুমি কেন এমন করো?” শায়ান উত্তর না দিয়ে উল্টোদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ায় অপমানবোধ আরও বাড়ল উপমার। দাঁত কিড়মিড় করে জানতে চাইল, “তুমি কি সমকামী?” ভীষণ বিস্ময়ে উপমার দিকে তাকিয়ে শায়ান বলল, “কী বলছ এসব?” “তাহলে কেন আমার সাথে এরকম বিহেভ করো? কেন আমি কোনো কিছু প্রশ্ন করলে, তুমি সেসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাও? কেন আমি সকাল-বিকাল মেসেজ করেও তোমার একটা রিপ্লাই পাই না? কেন আমরা পাশাপাশি শুয়েও এক সমুদ্রসমান দূরত্বে অবস্থান করছি? কেন তুমি আমাকে বিয়ে করেছ, যদি দাম্পত্য জীবন কিংবা সঙ্গিনীর কোনো মূল্যই তোমার কাছে না থাকে? যদি তাকে ভালোবাসার মতো মন তোমার না-ই থাকে, তাহলে কেন আমার জীবন নষ্ট করেছ? তোমার সংসার দেখার জন্য আমি আমার ভালো পজিশনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। এখন তো মনে হচ্ছে, এটাই আমার ভুল ছিল। যে সম্পর্ক ও সংসার আমাকে দিনের পর দিন একাকীত্বের যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে, সেই সম্পর্ক আমি একা কীভাবে টেনে নিই? উত্তর দাও, শায়ান। চুপ করে থেকো না। দুটো মাস... আমি শুধু এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে মরছি আর বোঝার চেষ্টা করছি তোমাকে। অথচ তুমি, কাছে থেকেও দূরে।” শায়ান কোনো প্রকার তর্কে-বিতর্কে না গিয়ে শান্ত গলায় বলল, “আমার এই বিয়েতে মত ছিল না। ধরে নিতে পারো, মায়ের ইচ্ছে ও জেদের কাছে হেরে গিয়ে তোমাকে এই ঘরের বউ করে আনা।” “মত না থাকার কারণ?” “আমি বিয়ে কিংবা যেকোনো সম্পর্কে খুবই অনাগ্রহী!” “এর পেছনে বড় কোনো কারণ আছে?” শায়ান উত্তর দিল না। এড়িয়ে যাওয়ার বাহানায় চোখের উপর হাত দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করল। উপমা আবারও প্রশ্ন করল, “এটা বিয়ের আগে বলোনি কেন?” “সুযোগ পাইনি। কারণ মা জানত, আমি এসব বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই না। এজন্য জেদ ধরে, একপ্রকার জোরজবরদস্তি করেই বিয়ে পর্যন্ত টেনে নিয়েছে আমাকে।” “ফাইন! তোমার এই বিয়েতে মত ছিল না। তুমি বিয়েতে বিশ্বাসী নও। মেয়েদের প্রতি তোমার কোনো আগ্রহ নেই। সব ঠিক আছে। একজন পুরুষের জন্য ব্যাপারটা স্বাভাবিক, মেনে নিলাম। কিন্তু এখানে আমার দোষ কী? বিনাদোষে আমি কেন শাস্তি পাচ্ছি?” শায়ান অবাক হওয়ার ভান ধরে বলল, “শাস্তি পাচ্ছ মানে? তুমি তো সবই পাচ্ছ। তোমার ভরণপোষণ থেকে শুরু করে যা কিছুর প্রয়োজন, সবটুকু মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি আমার ব্যাংক ব্যালেন্স ও সমস্ত অর্থ-সম্পত্তির মালিকও আগামীতে তুমিই হবে।” উপমা খুবই হতাশ হয়ে উঠে বসল। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় শায়ানের এমন নির্বিকার চেহারা দেখে তার সমস্ত শরীর জ্বলে উঠল। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল, “ব্যস, এই? দাম্পত্য জীবন মানেই টাকা-পয়সা, ভরণপোষণ? তুমি কি আদৌ বিয়ে কী, কেন হয়, দুটো মানুষ একই ছাদের নিচে কেন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি নেয়, এর মানে জানো না? নাকি জেনেও আমার সাথে এই ঢং করছ?” উপমা যে ফিজিক্যাল রিলেশনের কথা বলতে চাইছে, সেটা বুঝতে পেরেও শায়ান বলল, “যা কিছু পাচ্ছ, সেসবেও যদি না পোষায়, তুমি এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি নিতে পারো!” “তুমি যে অক্ষম পুরুষ, এটা বলতে লজ্জা পাচ্ছ?”
ভালো লেগেছে, ২য় অধ্যায় কবে আসবে
Read all reviews on the Boitoi app
দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষায় আছি 🌺❤️🌺