

“আয়নায় দেখেছ নিজেকে? কাজল দিলে কেমন লাগে জানো?” নিজের কথার গাম্ভীর্যে নিজেই চমকে গেলাম। রুনু এবার সত্যিই ভড়কে গেল। তাকে দেখে প্রথম প্রথম বেশ শক্ত মনে হয়েছিল। কানের একপাশে চুল গুঁজল রুনু। চোখের কোলে কেমন মেঘ জমল। এমন দৃষ্টি পুরুষের কোথায় গিয়ে আঘাত করে, তা যদি মেয়েরা জানত! “আসলেই বেশি খারাপ লাগছে? চোখ ধুয়ে আসব?” আমি মনে মনে হাসলাম। খোলা বইয়ের মতো পুরুষদের প্রেমিকের চোখে দেখে না নারীরা। যে পুরুষ নারীকে বিভ্রান্ত করতে পারে, নারী সেই পুরুষের প্রেমে পড়ে।
বইটা পড়ে খুব মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। ঠিক বুঝতে পারছিনা কেমন লাগছে। এক ধরনের চাপা কষ্ট হচ্ছে। এখানে কেউ একক নায়ক বা নায়িকা না ঠিক। শান্ত, রুনু, মিতু, টুলু ভাই, ফাহাদ, তুতুল, অনি সবার একটা গল্প। জীবনের কঠিন বাস্তবতার গল্প। ভালোবাসা আঁকড়ে ধরে রাখার গল্প আবার ছেড়ে দেবার গল্প। বেশি ভালোবাসলেই তো অধিকার ছেড়ে দেওয়া যায় তাই না? কেউ ভালোবাসার জন্য খুন করতে দ্বিধা করেনা আবার ভালোবাসার ভালো থাকার জন্য দূরেও সরে যেতে পারে। শান্ত, রুনুর কেমিস্ট্র খুব চমৎকার ছিল। বিশেষ করে রুনুর ভোজনরসিক স্বভাব, অনেকটা আমার সাথে মিলে যায়। তবে কম পুরুষই আছে আসিফের মত ব্যাপারটা খুশিমনে মেনে নেয়। আসিফ চরিত্রের দুজনকেই অসম্ভব ভালো লেগেছে। আমারও মনে হয় আসিফ নামের প্রতি দূর্বলতা আছে! পুরোটা গল্পে রহস্যময় কিছু ব্যাপার ছিল, আস্তে সবকিছু পরিস্কার হয়। টুলু ভাইয়ের জন্য ভীষণ ভীষণ খারাপ লেগেছে। বেঁচে থাকার জন্য প্যারাসিটামলের আশ্রয় না নিয়ে অপেক্ষা করলে হয়ত গল্পটা অন্যরকম হতো। আবার তুতুলের জন্য অসম্ভব মায়া লেগেছে। যদিও অন্যায় তো অন্যায়ই কিন্তু ক'জন আছে নিজের ভুল বুঝে এত কঠিন ডিসিশন নিতে পারে? ফাহাদকে তেমন ভালো লাগেনি। অনেক কিছুই পরিস্থিতির স্বীকার বলে পার পেয়ে গেলেও আসলে পরিস্থিতিটাই প্রকৃত অর্থে পরীক্ষা। যেখানে সবাই পাশ করতে পারে না। মুনিরা কায়ছানের লেখা আগে পড়া হয়নি। চমৎকার গল্প বলার ভঙ্গিটা, প্রথম লাইনেই আকৃষ্ট করে ফেলেছিল। একবসায় পড়া যাকে বলে। আপুর কথাটা খুব ভালো লাগলো - এত বাস্তব - 'মেঘের বাস আকাশে হলেও মেঘের সাথে আকাশের বন্ধুত্ব হয় না। এক সময় মেঘ ভারি ঠেকে আকাশের কাছে আর বৃষ্টি হয়ে আশ্রয় খোঁজে মাটিতে—থাকুক না যত ব্যবধান...'
Read all reviews on the Boitoi app