

কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিটাকে সে পেলো বাড়ির পেছনের পুকুর পাড়ে। কারো সঙ্গে অনেক হাসিমুখে ভিডিও কলে কথা বলে চলেছে। মেয়েটার বুকটা ধক করে উঠলো। তবে এটা কি তাশফিন ভাইয়ের সেই দারুচিনি বালিকা? সে পা টিপে টিপে অতি সন্তর্পণে পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। নিভু নিভু বাতির আলোয় একটু আশা ছিল—ভিডিও কলের ওপাশে কোনো নারী নেই। কিন্তু ধবধবে গায়ের রঙের একজন বিদেশী মেয়ে দেখতে পেলো। মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তাশফিন হেসে বলছে, “বাই বেইব! আই উইল কল ইউ লেটার।” হাহ! বেইব? আহারে মৌমিতার মনে হলো, সে এতক্ষণ বৃথা চেষ্টা করলো। এর থেকে মাঠের মধ্যে কাঁদায় গড়াগড়ি করলেও শান্তি হতো। তাশফিন ঘুরে বলল, “কী চাই? কেউ ফোনে কথা বললে এটা কী ম্যানার্স যে উকিঝুঁকি দেওয়া? ইডিয়ট কোথাকার।” ঠাস করে মেয়েটার মাথায় একটা চড় দিলো তাশফিন। মৌমিতা গম্ভীর কণ্ঠে বললো, “উনি কি আপনার সেই দারুচিনি বালিকা?” “তোকে কেন বলবো? কে তুই?” “আমি মৌমিতা আহমেদ।” “ও বাবা! আমার মহারাণী রে। তা তুই মৌমিতা টৌমিতা যেটাই হোস না কেন, আমার কথা তোকে বলবো না। যা, তুই এখান থেকে।” “আশ্চর্য তো! কেন বলবেন না শুনি?” “কারণ তুই ছোট। হাইটেও আর বয়সেও। ইন ফ্যাক্ট তোর সবকিছুই ছোট।” “মানে?” “মনের কথা বলেছি। এই যে দেখলি তোর মাইন্ডও কত ছোট। তুই কত অনায়াসে নেগেটিভ কথায় চলে গেলি।” “তাশফিন ভাই, কথা ঘুরাবেন না কিন্তু। এটা খুব বাজে কাজ আপনার।” “ঘুরালাম না। এই তুই শ্যাম্পু করেছিস? এই সন্ধ্যে বেলা? কার জন্য করলি? দেখ! ইশ রে, চুলে থেকে তাও একটা বাজে গন্ধ বের হচ্ছে। যা সর। পরে আবার আমার শরীর থেকেও আসবে। এতদিন জানতাম তুই ব্রাশ করিস না, আজ দেখলাম শ্যাম্পু করতেও সমস্যা তোর।” “দেখেন, আমি কিন্তু কেঁদে ফেলবো।” “ফেল না। সমস্যা কী? তোর কান্না করার পুরোনো অভ্যাস আছে।” মৌমিতা থম ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। তাশফিনের আবার মায়া হলো। এতটা অপমান করা ঠিক হচ্ছে না। সে এগিয়ে এসে বলল, “যা, তোকে আইসক্রিম কিনে দেবো। তাও কান্না করিস না।” “লাগবে না। আপনি শুধু বলেন, দারুচিনি বালিকাটা কে?” “ওকে। আহিল ভাইয়ের বাসরের দিন বলবো।” “ওনাদের বাসরে আমার কী কাজ?” “কারণ সেদিন তুই ১৮+ হয়ে যাবি। বুঝলি না তো? এ কারণেই তো ফেল করিস। ব্রেইনে শর্ট সার্কিট হয়।” এই রে! সেরেছে কাজ। মৌমিতা যে ক্লাসে ফেল করে তা তাশফিন ভাই জানলো কীভাবে? তবে আপাতত সেই বিষয় আলাদা রেখে শুধালো, “১৮+ হয়ে যাবো এর মানে কী?” “সেদিন তোর বয়স ১৮ হয়ে একদিন হবে। তাহলে হয়ে গেলি না ১৮+? নাহ রে, তোর বাচ্চাদের জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে অনেক। এত গবেট মা পেলে কেমন হবে?” “আপনার ভাবতে হবে না।” “আমি না ভাবলে কে ভাববে বল? সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, ভেতরে যা। আমি আইসক্রিম নিয়ে এসে রাজকুমারের হাতে পাঠিয়ে দিবো। আর যদি কখনো বাজে সময় গোসল আর ব্রাশ করতে দেখেছি, পিটিয়ে ছাল তুলে ফেলবো—গরু!” “আপনি তো প্রশ্নের জবাবটা দিলেন না।” “বললাম না যে বাসরের দিন দিবো। এত ঘ্যানঘ্যান করিস না।” মৌমিতা মন খারাপ নিয়ে সামনে হাঁটা ধরলো। তাশফিন ভাই আসলে খারাপ। ভীষণ রকমের খারাপ মানুষ।
অনেক সুন্দর একটি গল্প♥️♥️ ..পড়ে অনেক ভালো লাগলো🥰
Read all reviews on the Boitoi app