

‘দ্য মেটামরফোসিস’ ছোট বই; কিন্তু পড়া শেষ হলে মাথার ভেতর অনেকক্ষণ থেকে যায়। গ্রেগর সামসা এক সকালে উঠে দেখে সে কীটপতঙ্গ হয়ে গেছে, এটুকুই গল্প। কিন্তু এই একটা ঘটনাকে ঘিরে কাফকা যা বলেন, তা আসলে মানুষের অস্তিত্ব, পরিবার আর একাকীত্ব নিয়ে। কাফকার বিশেষত্ব এখানেই; তিনি কিছু বোঝান না, পাঠককে একটা অস্বস্তিকর জায়গায় ফেলে রাখেন। গ্রেগরের রূপান্তর আসলে শারীরিক নয়। এটা সেই মানুষের গল্প, যে একসময় দরকারি ছিল, তারপর আর রইল না। পরিবারের বদলে যাওয়াটা সবচেয়ে কষ্টের। গ্রেগর যখন উপার্জন করত, তখন সবাই তার ওপর নির্ভর করত। কিন্তু যখন সে সেই ভূমিকা পালন করতে পারল না, পরিবারই তাকে বোঝা ভাবতে শুরু করল। বইটা পড়তে পড়তে প্রশ্নটা আসে, মানুষের মূল্য কি শুধু সে কতটা কাজে লাগে তার ওপর? কাফকার ভাষা সংযত, কোথাও অতিরিক্ত কিছু নেই। তবু প্রতিটি বাক্যের ভেতরে একটা চাপ থাকে, একটা অস্বস্তি থাকে। এই নিরাসক্ত বর্ণনাভঙ্গিই বইটাকে আলাদা করে। শেষ পর্যন্ত এটা রূপকথা নয়, ভবিষ্যতের গল্পও নয়; এটা এখনকার মানুষের গল্প—একা হয়ে যাওয়ার, নিজেকে হারিয়ে ফেলার।