

“তুমি যদি আমাকে না চেনো, তবে এই হাওরের জলকে জিজ্ঞেস করো; সে তোমাকে বলবে আমার একলা রাতের কান্নার কথা।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের পরীক্ষা শেষ করে বন্ধুরা মিলে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিলাসবহুল হাউজবোটে ভেসেছিল মেঘমালা। উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতির রূপ অবলোকন আর ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করা একঝাঁক স্মৃতি। কিন্তু মেঘালয়ের পাহাড় চিরে নেমে আসা এক আকস্মিক ঝুম বৃষ্টি আর হিজল বনের গোলকধাঁধায় মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে যায় তার চেনা পৃথিবী। সেই অন্ধকার ঝড়ো রাতে হ্যারিকেনের আলো জ্বালিয়ে ডিঙি নৌকা নিয়ে অবতীর্ণ হয় শ্রাবণ। মাত্র সাতটি দিন! হিজল বনের মায়া, মাটির ঘরের সোঁদা গন্ধ আর লাল শাপলার বিলে কাটানো একটি বিকেল মেঘমালা আর শ্রাবণের হৃদয়ে এঁকে দেয় অনুভূতির জলছবি। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। সমাজ আর মধ্যবিত্ত জীবনের অলিখিত নিয়মে মেঘমালা সঁপে দেয় নিজেকে শহরের রাজপ্রাসাদে, সায়াহ্নের সাজানো সংসারে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এক অলস বিকেলে মেঘমালা যখন আবারও টাঙ্গুয়ার হাওরে পা রাখে, তখন সময়ের ওপার থেকে আবারও মুখোমুখি হয় তারা; এক হয় দুটো হারিয়ে যাওয়া ব্যাকুল দৃষ্টি। সময় কি তাদের ভুল শুধরাবার সুযোগ দেবে? হয়তো চাইলেই। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, দুটো বাঁকা রেখা কি একত্রে পুনরায় শুরু থেকে শুরু করতে পারবে, নাকি ট্রেনের পরস্পর সমান্তরাল রেখা যেমন পাশাপাশি একসাথে থেকেও মিলতে পারে না, তেমনই হবে শ্রাবণ-মেঘের জলছবি?