

আহমেদ ফারুকের ‘স্বপ্নঘুড়ি’ একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প, যেখানে স্বপ্ন, বন্ধুত্ব, দুর্ঘটনা, মানবিকতা এবং জীবনের নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। গল্পের কথক সেয়ন্তী। বহু বছর পর নিউমার্কেটে হঠাৎ তার দেখা হয় শৈশবের বন্ধু রাজীবের মায়ের সঙ্গে। সেই সূত্রে সে রাজীবের বাড়িতে যায়। রাজীব ছিল তাদের গ্রামের সবচেয়ে মেধাবী ও সৃজনশীল ছেলে। সে নানা ধরনের ঘুড়ি বানাত এবং সেয়ন্তীকে একটি ‘স্বপ্নঘুড়ি’ বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একদিন নিজের তৈরি ঢোলঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে চারতলার ছাদ থেকে পড়ে যায় রাজীব। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ও একটি পা কেটে ফেলতে হয়, আর বাকি অঙ্গগুলোও প্রায় অকেজো হয়ে যায়। ফলে তার স্বাভাবিক জীবন চিরতরে থেমে যায়। বিশ বছর পর সেয়ন্তী যখন রাজীবের সঙ্গে দেখা করে, তখন সে অসহায় ও শয্যাশায়ী। তবুও তার মন এখনো স্বপ্নে ভরা। রাজীব কাঁদতে কাঁদতে বলে, সে সেয়ন্তীকে তার প্রতিশ্রুত ‘স্বপ্নঘুড়ি’ বানিয়ে দিতে পারেনি। অন্যদিকে তার বৃদ্ধ মা ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে ভুগছেন, কারণ তার মৃত্যুর পর রাজীবের দেখাশোনা করার কেউ নেই। বিদায়ের সময় রাজীব বলে, তার শরীরের পা ভেঙে গেছে, কিন্তু মনের পা ভাঙেনি; সে এখনো কল্পনায় বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটে এবং মনের আকাশে ঘুড়ি ওড়ায়। সেয়ন্তী চলে আসে, কিন্তু রাজীবের অসহায় জীবন ও তার মায়ের অসীম কষ্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। গল্পটি মানুষের স্বপ্নভঙ্গ, সময়ের নির্মমতা, প্রতিবন্ধী মানুষের নিঃসঙ্গতা এবং মনের অদম্য শক্তির এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে। ‘স্বপ্নঘুড়ি’ এখানে শুধু একটি ঘুড়ি নয়, বরং মানুষের অপূর্ণ স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা এবং আশার প্রতীক।