

সম্পূর্ণ মুখজুড়ে খুশি ছড়িয়ে পড়ল মোহনার। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল, “তুমি নূপুর নিয়ে এসেছ?” “ভাবীর হুকুম, না মানলে হয়!” “তবে তখন মিথ্যে বললে কেন?” “রাগলে তোকে ভীষণ সুন্দর দেখায়। এজন্যই একটু রাগিয়ে দিলাম। গাল দুটো তো ফুলে তবলা হয়ে গিয়েছিল। ঠোকা পড়লেই আওয়াজ করবে!” “মা খুব মেরেছে। দেখো, গালের কী অবস্থা!” আতিক এবার পুরো চেহারার দিকে নজর দিল। গালে দুটো আঙুলের দাগ স্পষ্ট। এত বড়ো মেয়ের গায়ে কেউ হাত তোলে? আর তুলবেই বা না কেন! মেয়েটাও হয়েছে জেদী। কোনো কিছু চাই মানে চাই। না পেলে তো হলোই। কান্নাকাটি করে দশজনকে জানাবে। গালে আলতো করে আঙুল ছোঁয়ালো আতিক। বলল, “খুব বেশি লেগেছে?” “লাগবে না আবার? ও তো জুড়ে মারল, যে কেউ ব্যথা পাবে। আমার শরীরে তো আর গণ্ডারের চামড়া না যে, শত আঘাতেও দাগ পড়বে না।” “তুই এত জেদ না করলেই পারিস। সব সময় অবুঝের মতো কাজ করতে হবে কেন? আর এত জেদ করিস না। দেখলি তো, ক্ষতিটা কিন্তু তোরই হলো!” “হয়েছে, আর জ্ঞান দিয়ো না।” “জ্ঞান দিলাম কোথায়?” “ধুর... ছাড়ো এসব। খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে না থেকে নূপুর পরাও পায়ে।” “আমি?” বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করল আতিক। “হ্যাঁ...।” “কেন?” “ওমা! কষ্ট করে নিয়ে এসেছ, পরিয়ে দেবে না?” “তুই কী চাস বল তো?” “আপাতত নূপুর চাই। কই, দাও। জলদি দাও। অনেকক্ষণ ধরে পা'টা আমার খালি পড়ে আছে।” মোহনা কোনো বিরক্তি ছাড়াই পা সামান্য উপরে তুলে ধরল। তার মধ্যে একফোঁটা সংকোচও ছিল না। দুদিন পর কবুল বলে যাকে গ্রহণ করবে, তার সামনে আবার সংকোচ কিসের! তবুও ভেতরে অদ্ভুত জড়তা টের পেয়েছিল মোহনা, যা কারও সামনে প্রকাশ করা তো দূরের কথা, কল্পনা করলেও ঘৃণা এসে ভর করে।