

রক্তের সম্পর্কের চেয়েও কখনো কখনো হৃদয়ের বন্ধন অনেক বেশি দৃঢ় হয়। ‘আমার আপুই’ উপন্যাসের মূল ভিত্তি ঠিক তেমনই এক আত্মিক টান। সে আপন বড় বোন নয়, চাচাতো বোন; কিন্তু ছোট বোনের কাছে সে-ই ছিল পুরো পৃথিবীর সমান আশ্রয়। বড় বোনের প্রতি ছোট বোনের নিখাদ শ্রদ্ধা আর ছোট বোনের প্রতি বড় বোনের উজাড় করা মায়ায় পরম সুখে কাটছিল তাদের যৌথ পরিবারের দিনগুলো। কিন্তু নিয়তি সেই সুখে চোখ দিল। হুট করেই একদিন চিরতরে হারিয়ে গেল পরিবারের সেই প্রাণের স্পন্দন, স্নেহের ‘আপুই’। তার এই আকস্মিক চলে যাওয়া যেন এক লহমায় পুরো পরিবারকে স্তব্ধ করে দিল। যে বাড়িটি সবসময় মুখরিত থাকত, সেখানে নেমে এলো এক নিচ্ছিদ্র, দমবন্ধ করা নীরবতা। আর পেছনে রয়ে গেল ছোট বোন—যার বুকে এখন এক আকাশ পরিমাণ দহনযন্ত্রণা। যে বোনকে ছাড়া তার একটা দিনও চলত না, তাকে ছাড়া বাকি জীবন পার করার এই তীব্র মানসিক কষ্ট আর একাকীত্বের এক জীবন্ত দলিল এই উপন্যাস। ‘আমার আপুই’ কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, এটি বাস্তব জীবনের নির্মম সত্যে মোড়ানো এক চিরন্তন ভালোবাসার এপিটাফ।