

আমি অন্তর্মুখী স্বভাবের। সহজে বাইরের মানুষের সাথে হেসেখেলে মিশে যেতে পারি না। স্বাভাবিক ভাব বিনিময় করতে গিয়েও থমকে যাই, কথা গুলিয়ে ফেলি! সাইকোলজি এটাকে ‘মানসিক রোগের লক্ষণ’ বলে ঘোষণা দেবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমার এই স্বভাবের পেছনে অবশ্য একটা বিষাদমাখা গল্প আছে। গল্পটা নাহয় অন্য একদিন শোনাব, যদি আপনি আগ্রহী থাকেন! “আমি বাইরের কেউ নই, মিসেস। আপনার অভ্যন্তরীণ একজন! যেখানে পূর্বে কেউ ছিল না, কিন্তু আজ থেকে আমিই বসবাস করব।” “একটি কথা বলি?” “শুনতে অধীর আগ্রহে স্ক্রিনে তাকিয়ে আছি। দ্রুত বললে ভালো হয়।” “অভ্যন্তরীণ মানুষের কাছে আহ্লাদ করার খুব শখ আমার। সহ্য করতে পারবেন?” “বুঝলাম, আমার সহ্যক্ষমতা সম্পর্কে আপনার কোনো আইডিয়াই নেই, মিসেস!” “আমি প্রচণ্ড অভিমানী!” “মান ভাঙানোর দায়িত্বও নিলাম তবে!” “যদি কখনো টের পাই আমার আহ্লাদে আপনি বিরক্তবোধ করছেন, তখন আমি নিজেকে গুটিয়ে নিতে দুবার ভাবব না হয়তো। এমনও হতে পারে যে—এই গুটিয়ে নেওয়ার রেশ বহুবছর পর্যন্ত থেকে যাবে। অথবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত!” সেদিনের কথাগুলো মনে পড়তেই ক্যাপটা টেবিলে রেখেই নির্ভীক রুমে ছুটে এল। সে মিসেসকে দেওয়া কথার খেলাপ করেছে। নিদারুণভাবে ভেঙেছে মেয়েটার কোমল হৃদয়। নৈঋতা উল্টো ঘুরে শুয়ে আছে তখন। দূর থেকেই খেয়াল করা যায়—মেয়েটার শরীর দুলে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। রিত কাঁদছে। ইশ, মনের অসাবধানতায় বউটাকে কত নিষ্ঠুরভাবে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে দায়িত্বশীল স্বামী নির্ভীক আকসান! পাশাপাশি সে একজন দেশপ্রেমিক, সেনাবাহিনীতে কর্মরত অফিসার মেজর আকসানও বটে! নির্ভীক ধীর পায়ে যখন নৈঋতার সামনে গেল, মেয়েটা তখন শান্ত দিঘির মতো পড়ে ছিল বিছানায় কাত হয়ে। বন্ধরত চোখ—মনে হলো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অথচ চোখের পাপড়ি ভেজা। নির্ভীক মনে মনে আহত হয়। মিসেস অভিমানিনী এতটাই গভীর অভিমানে সিক্ত যে, তার সামনে অভিমান প্রকাশ করতেই অনিচ্ছুক।
আরেকটা সুন্দর, প্রেমময় গল্পের জন্য লেখিকাকে ধন্যবাদ। আরো বেশি বেশি লেখা দিবেন।
Read all reviews on the Boitoi app