

‘বিষাক্ত মায়া’—শুধু একটি নাম নয়, এটি মানুষের হৃদয়ের এমন এক অনুভূতির প্রতিচ্ছবি, যেখানে ভালোবাসা, স্বপ্ন, বিশ্বাস, বিচ্ছেদ এবং বেদনা এক অদ্ভুত বন্ধনে জড়িয়ে থাকে। কখনো যে মায়া জীবনকে রঙিন করে তোলে, সেই মায়াই আবার অদৃশ্য বিষের মতো ধীরে ধীরে মনকে ক্ষতবিক্ষত করে। এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা সেই অনুভূতিরই ভিন্ন ভিন্ন ভাষ্য। এখানে প্রেম আছে, তবে তার সঙ্গে রয়েছে অভিমান; স্বপ্ন আছে, তবে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙনের দীর্ঘশ্বাস; জীবন আছে, তবে জীবনের অনিবার্য শূন্যতাও রয়েছে। মানুষের অন্তর্লোকের নীরব কান্না, সমাজের বাস্তবতা, সম্পর্কের জটিলতা এবং আত্মঅন্বেষণের পথ—সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এই কাব্যগ্রন্থের জগৎ। এই গ্রন্থের কবিতাগুলো কোনো চূড়ান্ত সত্যের দাবি করে না; বরং পাঠকের নিজস্ব অনুভূতির সঙ্গে মিলেমিশে নতুন অর্থ খুঁজে নিতে চায়। যে পাঠক কখনো ভালোবেসে হারিয়েছেন, বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন কিংবা জীবনসংগ্রামে নীরবে নিজের বেদনা বহন করেছেন, তাঁদের হৃদয়ে হয়তো এই কবিতাগুলোর কিছু শব্দ প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসবে। ‘বিষাক্ত মায়া’ সেই সব অনুভূতির প্রতি এক বিনম্র নিবেদন, যা মুখে বলা যায় না, অথচ নীরবে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যদি এই কাব্যগ্রন্থের কোনো একটি কবিতাও পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে, কোনো একটি পঙ্ক্তি তাঁকে ভাবতে শেখায় কিংবা তাঁর নীরব অনুভূতির ভাষা হয়ে ওঠে—তবেই এই প্রয়াস সার্থক হবে। সকল পাঠকের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।