

বেকার প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার সাহস সবার থাকে না। কিন্তু সেই সাহস ছিল প্রেরণার। বিয়ের আসরে বসা প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারকে পিছনে ফেলে সে হাত ধরেছিল তার বেকার নিভ্রান ভাইয়ের। মুহূর্তেই ছেড়ে দিয়েছিল বিলাসিতা, আরাম-আয়েশ, পরিবারের সযত্নে গড়ে তোলা স্বপ্নের জীবন। আর নিভ্রান? শূন্য পকেট, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর বুকভরা ভালোবাসা ছাড়া তার কাছে ছিল না কিছুই। তবু প্রেরণার হাত শক্ত করে ধরে সে বেরিয়ে পড়েছিল অচেনা এক গন্তব্যের উদ্দেশে। যেখানে ছিল না নিশ্চিত আশ্রয়, ছিল না নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। ছিল শুধু দু'জন মানুষের একসঙ্গে বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা। কিন্তু ভালোবাসা কি সত্যিই সব প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে? নাকি বাস্তবতা একসময় ভালোবাসার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা নেয়? 'মধ্যাহ্নের শেষ প্রহর' এমন এক ভালোবাসার গল্প, যেখানে স্বপ্নের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সংগ্রাম, আর সংগ্রামের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একে অপরকে হারিয়ে না ফেলার দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি।
"☺️☺️ আপুর গল্প নিয়ে আলাদা করে কিছু বলতে হবে না। প্রত্যেকটা গল্পই অসাধারণ। কিছু গল্প থাকে যেগুলো শেষ হওয়ার পরও রেষ কাটে না মধ্যান্হের শেষপ্রহর ও তেমন একটি গল্প। প্রতিটা চরিত্র খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে। নিভ্রাণ আর প্রেরণার পাশাপাশি অন্য পার্শ্ব চরিত্র গুলোও খুব ভালো লেগেছে। আশা করি আপু ভবিষ্যতেও এইরকম ভালো ভালো লেখা আমাদের উপহার দিবে।"
☺️☺️ আপুর গল্প নিয়ে আলাদা করে কিছু বলতে হবে না। প্রত্যেকটা গল্পই অসাধারণ। কিছু গল্প থাকে যেগুলো শেষ হওয়ার পরও রেষ কাটে না মধ্যান্হের শেষপ্রহর ও তেমন একটি গল্প। প্রতিটা চরিত্র খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে। নিভ্রাণ আর প্রেরণার পাশাপাশি অন্য পার্শ্ব চরিত্র গুলোও খুব ভালো লেগেছে। আশা করি আপু ভবিষ্যতেও এইরকম ভালো ভালো লেখা আমাদের উপহার দিবে।
Read all reviews on the Boitoi app
📖 ই-বুক রিভিউ: মধ্যাহ্নের শেষ প্রহর ✍️ লেখিকা: ফিজা মাহনূর চৌধুরী কিছু গল্প শেষ হয়ে যায়, আবার কিছু গল্প শেষ হওয়ার পরও পাঠকের হৃদয়ে নীরবে বেঁচে থাকে। "মধ্যাহ্নের শেষ প্রহর" ঠিক তেমনই একটি গল্প। এটি শুধু নিভ্রাণ আর প্রেরণার প্রেমকাহিনি নয়; বরং ভালোবাসার কাছে অর্থ, সামাজিক মর্যাদা আর ভাগ্যের নির্মমতাও যে একসময় মাথা নত করে—সেই সত্যের এক মায়াময় প্রতিচ্ছবি। এই গল্পে প্রেম আছে, তবে তার চেয়েও বেশি আছে দায়িত্ব। সংগ্রাম আছে, তবে তার চেয়েও বেশি আছে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার সাহস। প্রতিটি অধ্যায় যেন পাঠকের হৃদয়ে নিঃশব্দে অনুভূতির ঢেউ তোলে। 🖤 নিভ্রাণ নিভ্রাণ চরিত্রটিকে শুধু ভালো লেগেছে বললে তার প্রতি অবিচার করা হবে। সে এমন একজন মানুষ, যার শূন্য পকেট কখনো তার ভালোবাসাকে শূন্য করে দিতে পারেনি। এতিম, বেকার—তবুও নিজের আত্মমর্যাদা বিসর্জন না দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে সম্মানের সঙ্গে আগলে রেখেছে। সংসারের জন্য মাঠে নেমে কাজ করতেও তার কোনো সংকোচ ছিল না। সারাদিন রোদে-ঘামে মাঠে পরিশ্রম করে ঘরে ফিরে নিজের ক্লান্তির কথা ভুলে প্রেরণাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিত। সংসারের কোনো কাজই সে প্রেরণাকে করতে দিত না; যেন সমস্ত কষ্ট নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে প্রিয় মানুষটিকে শুধু ভালোবাসা আর যত্নে আগলে রাখতে চাইত। নিভ্রাণ শিখিয়েছে—একজন পুরুষের প্রকৃত পরিচয় তার উপার্জনে নয়, বরং তার দায়িত্ববোধ, আত্মমর্যাদা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। 🌸 প্রেরণা প্রেরণা ছিল প্রাচুর্যের মাঝে বেড়ে ওঠা এক মেয়ে। অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তে সে বেছে নিয়েছে হৃদয়ের ডাককে। বাবার পছন্দ করা ধনী, প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারকে নয়, বরং ভালোবেসে হাত ধরেছে একজন সংগ্রামী যুবকের। বিলাসিতার জীবন ছেড়ে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরকে আপন করে নেওয়ার যে মানসিকতা, সেটাই প্রেরণাকে অনন্য করে তুলেছে। অভাবের সংসারেও তার মুখে কোনো অভিযোগ ছিল না, ছিল না কোনো আক্ষেপ। কারণ তার কাছে ইট-পাথরের প্রাসাদের চেয়ে নিভ্রাণের ভালোবাসায় ভরা সেই কুঁড়েঘরই ছিল সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। ভালোবাসা থাকলে অল্পতেই যে পরিপূর্ণ সুখ খুঁজে পাওয়া যায়, প্রেরণা যেন সেই কথাটিই নিঃশব্দে শিখিয়ে দিয়েছে। 🌼 সাবিনা প্রতিটি গল্পে কিছু চরিত্র থাকে, যাদের প্রতি অজান্তেই শ্রদ্ধা জন্মে যায়। সাবিনা তেমনই একজন। একজন মা হয়ে তিনি সমাজের নিয়ম নয়, মেয়ের চোখের সুখকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার নীরব সমর্থন আর সাহস না থাকলে হয়তো নিভ্রাণ-প্রেরণার গল্পটি কখনো পূর্ণতা পেত না। 🤝 মঈন বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা যদি কোনো চরিত্রে খুঁজতে হয়, তবে সেটা মঈন। সুখে নয়, দুঃসময়ে যে কাঁধে হাত রাখে, সেই তো প্রকৃত বন্ধু। নিভ্রাণের জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে মঈন যেভাবে পাশে থেকেছে, তা সত্যিই মুগ্ধ করেছে। 💙 আনিসুল হক প্রথমদিকে আনিসুল হককে হয়তো কঠোর মনে হয়েছিল। একজন বাবার দৃষ্টিতে তিনি শুধু মেয়ের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চেয়েছিলেন। কিন্তু গল্প যত এগিয়েছে, ততই তার চরিত্রের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে। গোপনে নিভ্রাণকে চাকরি পেতে সাহায্য করার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন—কিছু ভালোবাসা প্রকাশ্যে নয়, নীরবতায় প্রকাশ পায়। 🏡 পটল ও রহিমা এই দুই চরিত্র আমার হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। নিজেদের অভাব-অনটনের মাঝেও নিভ্রাণ আর প্রেরণাকে যেভাবে আগলে রেখেছে, তাতে বারবার মনে হয়েছে—রক্তের সম্পর্কই সব নয়, ভালোবাসাই আসল আত্মীয়তা। তাদের নিঃস্বার্থ স্নেহ, মমতা আর আশ্রয় গল্পটিকে এক অন্যরকম উষ্ণতা দিয়েছে। মনে হয়েছে, মানুষ রক্তের সম্পর্কে নয়, হৃদয়ের সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি আপন হয়ে ওঠে। 🧸 পরি ছোট্ট পরি যেন পুরো গল্পের একমুঠো নির্মল আনন্দ। তার প্রতিটি সংলাপ, সরলতা আর "ভাবী" ডাকের ভেতর এমন এক নিষ্পাপ মায়া লুকিয়ে আছে, যা পড়লে অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। ছোট্ট এই চরিত্রটি অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই পাঠকের হৃদয়ে আলাদা একটি জায়গা করে নেয়। 🌿 শিহাব প্রেরণার ভাই শিহাব প্রমাণ করেছে, একজন ভাইয়ের ভালোবাসা সবসময় শব্দে প্রকাশ পায় না। তার আন্তরিকতা ও বোনের প্রতি দায়িত্ববোধ গল্পটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। আর সত্যি বলতে, পরি আর শিহাবের গল্পের শেষের ছোট্ট মুহূর্তগুলোও বেশ ভালো লেগেছে। পরবর্তী পর্বে তাদের সম্পর্কের আরও সুন্দর পরিণতি দেখার অপেক্ষায় রইলাম। 👶 প্রণেষা ও নিদ্রা গল্পের শেষভাগে প্রণেষা আর ছোট্ট নিদ্রার উপস্থিতি যেন সমস্ত সংগ্রামের পর এক শান্ত বিকেলের মতো অনুভূতি এনে দেয়। বিশেষ করে প্রণেষার শেষের কথাগুলো পড়ে মনে হয়েছে—এত কষ্ট, এত লড়াই, এত ভালোবাসার পর অবশেষে জীবনের পূর্ণতা এসে ধরা দিয়েছে। আর ছয় মাসের ছোট্ট নিদ্রার উপস্থিতি যেন গল্পের শেষ পাতায় এক চিলতে নির্মল হাসি এঁকে দেয়। ⭐ সামগ্রিক অনুভূতি "মধ্যাহ্নের শেষ প্রহর" এমন একটি গল্প, যা পড়ে শুধু ভালো লাগে না—অনুভব হয়। নিভ্রাণ-প্রেরণার ভালোবাসা শেখায়, সুখ কখনো অর্থের ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে একে অপরের পাশে অবিচল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ওপর। এই গল্পে ভালোবাসা বড় বড় সংলাপে নয়, বরং একটি কুঁড়েঘরে মানিয়ে নেওয়া, মাঠ থেকে ফিরে নিজের হাতে প্রিয় মানুষটিকে খাইয়ে দেওয়া কিংবা নিঃশব্দে তার সমস্ত কষ্ট নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার মতো ছোট ছোট মুহূর্তে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আর পটল-রহিমা, মঈন, সাবিনা কিংবা পরির মতো চরিত্রগুলো মনে করিয়ে দেয়—মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা। ✍️ ফিরোজা মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত কোমল, সাবলীল ও হৃদয়ছোঁয়া ভাষায় এমন একটি গল্প নির্মাণ করেছেন, যা পড়তে পড়তে কখনো চোখ ভিজে ওঠে, কখনো অজান্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। বইটি শেষ হলেও চরিত্রগুলো যেন পাঠকের মনের ভেতর বেঁচে থাকে। কিছু গল্প পড়ে শেষ হয়, আর কিছু গল্প শেষ হওয়ার পর শুরু হয় তার অনুভূতি। "মধ্যাহ্নের শেষ প্রহর" আমার কাছে ঠিক তেমনই একটি গল্প—যার শেষ পৃষ্ঠা উল্টে দিয়েও চরিত্রগুলোর মায়া থেকে বের হওয়া যায় না। ❤️✨ ⭐ রেটিং: ৫/৫