

তরী অনন্যাদের ড্রয়িংরুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছিল। এমন সময় তার চোখ পড়ে একটা সিঙ্গেল সোফার ওপর, যেখানে কালো ও হলদে রঙ মেশানো একটা গিটার রাখা আছে। তরী বিস্মিত হলো। তার মানে মাঝরাতে গান গাওয়া লোকটা এই ‘খাড়ুস’ই! তরীর ইচ্ছে করছে গিটারটা একটু ছুঁয়ে দেখতে। যদিও সে জানে অনুমতি ছাড়া কারো জিনিসে হাত দেওয়া ঠিক নয়, তবুও তার ভীষণ ইচ্ছে হলো। ভাবতে ভাবতেই সে এগিয়ে গেল গিটারের কাছে। ধীরগতিতে আলতো হাতে যেই না গিটারে হাত রাখবে, অমনি পেছন থেকে ভেসে এল গম্ভীর একটা কণ্ঠস্বর— “অনুমতি ব্যতীত কারো জিনিসে হাত দেওয়া যে অন্যায়, সেটা জানেন না?” তরী চমকে উঠল। চট করে সে পেছন ফিরে তাকাল। দেখল, তার ঠিক সামনেই হুইলচেয়ারে বসে আছে সৌহার্দ্য। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তরীর দিকে তাকিয়ে আছে সে, যেন এক্ষুনি খেয়ে ফেলবে। কিন্তু তরীও দমে যাওয়ার মেয়ে নয়। সে একটু ঝুঁকে সৌহার্দ্যের মুখোমুখি হয়ে, চাপা কিন্তু খুব দৃঢ় স্বরে বলে— “আর অনুমতি ব্যতীত মাঝরাতে কারো ঘুম কেড়ে নেওয়া, সেটা অন্যায় নয়?”
"গল্পটা পড়ার সময় আমার একবারও মনে হয়নি এটা শুধু মাএ গল্প মনে হয়েছে এটা বাস্তব ঘটনা। শুধু মনে হয়েছে কেন এই পৃথিবীটা এও নিয়মে বাধা মাঝে মধ্যে একটু অনিয়ম হলেও তো পারে। গল্পটা সত্যিই অসাধারণ ছিল।"
গল্পটা পড়ার সময় আমার একবারও মনে হয়নি এটা শুধু মাএ গল্প মনে হয়েছে এটা বাস্তব ঘটনা। শুধু মনে হয়েছে কেন এই পৃথিবীটা এও নিয়মে বাধা মাঝে মধ্যে একটু অনিয়ম হলেও তো পারে। গল্পটা সত্যিই অসাধারণ ছিল।
Read all reviews on the Boitoi app
খুব সুন্দর হয়েছে গল্পটা। সমাজের কিছু নিয়মই দুটো পরিবারের সুন্দর সম্পর্ক আর দুটো জীবন তচনচ করে দিল। তরী আর সৌহার্দ্য চরিত্রটা ভালো লেগেছে। সৌহার্দ্য পঙ্গু হওয়া সত্ত্বেও তরী তাকে ভালোবাসাটা চোখে লাগার মতো ছিল। লেখিকা আপুর লেখনী ভালো লেগেছে। তার জন্য শুভকামনা
সত্যি বলতে পয়সা উশুল ট্রাইপের গল্পটা। গল্পটাতে সমাজের লোকের কথা চিন্তা করে অনেক নিয়ম, অনিয়মের মাঝে পরে অনেক সুন্দর সুন্দর পরিবার নষ্ট হইয়া যায় সেই দিকটা ফুটে উঠেছে। গল্পের লেখিকা খুব সন্দর ভাবেই গল্পটা উপস্থাপন করেছেন। যেখানে একজন পংগু মানুষের সাথে একজন সুস্থ মানুষের ভালবাসা ফুটে তোলেছেন।সমাজের অনিয়মের কারণে সেই ভালবাসায় পূর্ণতা পায় নি।
সাধারণ একটা ছোট্ট গল্পের মধ্যেই অসাধারণ লেখনশৈলী। এখানে অতিরঞ্জিত কিছুই নেই, যা আছে সব যেনো পাঠক মনকে এক নিমিষেই আকৃষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। এক পঙ্গু ছেলের জীবনে হুট করে সুস্থ স্বাভাবিক রমণীর দুর্বলতা, গভীর ভালোবাসা যেনো খরার বুকে ঘূর্ণিঝড়। তবে ঘূর্ণিঝড়টা তরী নামক রমণীর জীবনকে রাঙিয়ে দেওয়ার আগেই লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায় সমাজের নিয়মচালিকা। সমাজের নিয়মের পাহাড়ে অনিয়মটা বড়ই দুর্লভ। সেই দুর্লভতা কেড়ে নেই দুটি প্রাণের স্বপ্ন, ভালোবাসা। গল্পটা শেষ হতে হতেও যেনো মনের গহীনে ডুবে গেছে। যেনো এক জীবন্ত চরিত্রের ছোঁয়া মিশেছে। এক বাক্যে বলা যায় সাধারণের মাঝে অসাধারণ এক অনুভূতির ছোঁয়া এই অনিয়ম গল্পটা। পয়সা উসুল টাইপ গল্প। ❤️🌸।