

গল্পের মূল চরিত্র শোভন। সে সাভারের এক নির্জন বাড়িতে বসবাসকারী গাড়ি শোরুমের এক সুপুরুষ ও মার্জিত সেলসম্যান। কিন্তু এই সাধারণ অবয়বের আড়ালে সে এক ভয়ংকর সাইকো-অপরাধী। সে নিজেকে অপরাধী মনে করে না, বরং নিজেকে এক ‘শিল্পী’ মনে করে, যে মানুষের মস্তিষ্কের অনুভূতি ও স্মৃতি নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। তার প্রধান হাতিয়ার হলো নিজের তৈরি বিশেষ ‘ক্যাপসুল পারফিউম’ বা মায়াবী সুগন্ধি, যা মানুষকে ক্ষণিকের মধ্যে সংজ্ঞাহীন করে ফেলে তার নির্দেশ মানতে বাধ্য করে। সে রাতের আঁধারে নারীদের শিকার বানিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে, নিজের কামনা চরিতার্থ করে সিসিটিভিতে ভিডিও রেকর্ড করে এবং ওষুধ দিয়ে তাদের স্মৃতি মুছে দেয়। পরী ছিল শোভনের এমন এক শিকার, যার জন্য শোভন নিজেই জড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক জালে! সেই জালের সুতো ধরে আছেন এস আই বিলকিস! গল্পের গভীরে উন্মোচিত হয় শোভনের শৈশবের বিষাদময় ইতিহাস। মায়ের ওপর পারিবারিক অত্যাচার, বাবার চরম অবহেলা এবং শৈশবের একমাত্র সঙ্গী ও চাচাতো বোন সুভার অকালমৃত্যু তার কোমল মনকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়। মা ও সুভার করুণ পরিণতি থেকেই মূলত শোভনের ভেতরে নারী-মনস্তত্ত্ব ও সুগন্ধির বিজ্ঞান নিয়ে এক বিকৃত দর্শনের জন্ম হয়।