

মানুষের জীবনের হিসাববিজ্ঞানটা একটু নয়, বরং অনেকটাই জটিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রেমিককে প্রপোজ করার মধ্যেও একটা ‘ইনট্যানজিবল অ্যাসেট’ থাকে। আবার নীলক্ষেতের মোড়ে জ্যামে আটকে থাকা চৈত্র বিকেলের মেজাজটা হয়ে যায় ‘লায়াবিলিটি’। শোভন ছেলেটা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং পড়ছে। তার মগজে মগজ নেই, বাস করছে লুকা প্যাসিওলির ‘ডাবল এন্ট্রি সিস্টেম’। আর সেঁজুতি? নীলক্ষেতের বাকুশাহ মার্কেটের পেছনের টং দোকানে বসে কড়া লিকারের চিনি ছাড়া চায়ে চুমুক দিয়ে শোভনের খটমটে যুক্তি শুনে তার রাগ কর্পূরের মতো উড়ে যায়। তাই সে নিজের এমন অদ্ভুত প্রেমিককে প্রশ্ন করে, “ভালোবাসার কি কোনো ডাবল এন্ট্রি হয়, শোভন? ভালোবাসতে হয় একতরফা।” “রেওয়ামিল প্রথমবারে মেলে না, সেঁজুতি। মেলাতে না পারলে হিসাববিদরা ‘সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’ খুলে রাখে। আমাদের জীবনেও এখন একটা সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট চলছে...” উত্তরে শোভন আবারও কোনো হিসাববিজ্ঞানের যুক্তি এনে হাজির করে। একদিকে মধ্যবিত্ত সংসারের টানাপোড়েন, ভাইয়ের ব্যবসায়িক লোকসান আর বাবার তীব্র নিরাপত্তাহীনতার দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে আজিমপুরের জীর্ণ সরকারি কোয়ার্টারে মায়ের নিঃশব্দ অপেক্ষা। এই দুই মেরুর মাঝে দাঁড়িয়ে এক জোড়া চোখ কি পারবে জীবনের ডেবিট-ক্রেডিট মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যালান্স শিটটা মিলাতে? নাকি জীবনের রেওয়ামিলের দুপাশে সমান না হওয়ার আফসোস নিয়ে পরিশেষে বলতে হবে—“রেওয়ামিল মিলছে না!”