

Published
August 13, 2026
Language
বাংলা
Pages
122
Published by
বইটইএকসময়ের বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও আহনাফ চৌধুরী ঠিকই চোখের ভাষা পড়ে বুঝেছেন, আরিয়ানের সাথে মায়াবীর পূর্বে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আরিয়ান গোপনে একটা খাম মায়াবীর হাতে দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন। আহনাফের চোখকে ফাঁকি দিয়ে খামটি ভ্যানিটি ব্যাগে রাখেন মায়াবী। অথচ এই খামেই লুকিয়ে আছে গত চার বছরের বহু রহস্য! আহনাফ চৌধুরী তার ভালোবাসার মানুষ মায়াবীর হাত ছুঁয়ে বললেন—‘আমি চাই তুমি আগামী পরশুর পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমাদের পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে উপস্থিত থাকো। যদি তুমি আসো, বুঝব তুমি অতীত ভুলেছ। আর যদি না আসো...’ আহনাফ পুরো কথা শেষ না করেই একবুক অভিমান নিয়ে চলে গেলেন। একই সময়ে আরিয়ানের মেসেজ এল—‘আগামী পরশু রাতে চিরকালের জন্য এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি মায়াবী। যদি মনে হয় আমাদের গল্পটা অসমাপ্ত রয়ে গেছে, তবে এয়ারপোর্টে এসো। টার্মিনাল ২, রাত ৯টা।’ পরশু দিন একই সময়ে মায়াবীর সামনে দুটো পথ; আহনাফ অথবা আরিয়ান, যে কোনো একজনের হাত ধরতে হবে। লোকলজ্জা, মা-বাবার সম্মান আর নিজের ভালোবাসার টানাপোড়েনে মায়াবী এখন কোন পথ বেছে নেবে? চার বছর আগে মায়াবীকে কিছুই না জানিয়ে আচমকা ঢাকা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন আরিয়ান। তীব্র দুঃখ আর কষ্টে জর্জরিত মায়াবীর জীবনে তখন ভালোবাসার ছাতা হয়ে দাঁড়ালেন আহনাফ চৌধুরী! এক গোধূলি লগ্নে আরিয়ানের হঠাৎ ফেরা! মায়াবীর একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘নীলপদ্মের দীর্ঘশ্বাস’-এর আলো-আঁধারে মুখোমুখি হন ত্রিমুখী প্রেমের তিন চরিত্র; আরিয়ান-মায়াবী-আহনাফ। মায়াবী হৃদয়ের টানে গেলেন এয়ারপোর্ট। ‘তুমি আহনাফের কাছে ফিরে যাও, সে তোমাকে খুব ভালোবাসে!’—আরিয়ান মায়াবীকে রেখে একা ফিরে গেলেন; মায়াবীর একূল-ওকূল দুকূল গেল। এমনকি বাবার বাসাতেও পা বাড়াতে সাহস পাননি। ওঠেন সাবলেট বাসায়। আহনাফ ওই বাসায় হাজির কিন্তু আহনাফকে ফিরিয়ে দেন। সিঙ্গাপুর থেকে আসা একটি আন্তর্জাতিক ফোন কলে মায়াবী জানতে পারলেন—আরিয়ান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যা শুয়ে কেবল তারই নাম জপছেন! শঙ্কা-ভয়-লজ্জা সবকিছু পেছনে ঠেলে ফেলে আরিয়ানের পায়ে লুটিয়ে পড়েন মায়াবী! আহনাফের সহায়তায় আরিয়ান সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন আহনাফের বিশাল প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়ে। কিছুদিন পর প্রজেক্টে ক্রেন দুর্ঘটনায় কবলিত আরিয়ানকে বাঁচাতে গিয়ে আহনাফ চৌধুরী নিহত হন; কিন্তু ওখানে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। বেরিয়ে আসে গভীর ভালোবাসার পেছনের অসংখ্য রহস্য; রুমানা আহনাফের একান্ত সচিব, যার ভাষ্য আহনাফ শুধু ওর; ঈশিতা সিঙ্গাপুরে বিশাল অপরাধ-চক্রের হোতা, সে যেভাবেই হোক আরিয়ানকে একান্তভাবে নিজের চায়; শেষমেষ বডি ডাবল আহনাফ হাজির—সদর্পে বলে মায়াবী শুধু আমার! সমস্যাসংকুল ত্রিমুখী ভালোবাসার মাঠে যুদ্ধের পর যুদ্ধে দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ হাসিটা কে হাসবে তবে? কে আসল নায়ক আর কে আসল ভিলেন জানতে লাভ-ক্রাইম থ্রিলার ‘নীলপদ্মের দীর্ঘশ্বাস’ পড়তেই হবে; ভালোবাসার জগতে ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব, ত্যাগ, অপেক্ষা আর ষড়যন্ত্রের এক মহাযাত্রার উপন্যাস!