

পঁয়ত্রিশ বছর পর মেরিন একাডেমির পুনর্মিলনীতে গিয়ে একজন মানুষ হঠাৎ আবিষ্কার করে—তার সহপাঠীরা সবাই তাকে চিনলেও, সে যেন আর নিজেকে চিনতে পারে না। সেই এক সন্ধ্যা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় উনিশ বছরের এক ক্যাডেটজীবনে, ঝড়ের রাতে সমুদ্রের বুকে, একটি হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বে, একটি ভুলে যাওয়া নামে, আর এমন এক প্রশ্নে, যা সে সারাজীবন এড়িয়ে এসেছে—সে কি সত্যিই সমুদ্রের কাছে পরাজিত হয়েছিল, নাকি নিজেই অন্য জীবন বেছে নিয়েছিল? বাস্তব, স্মৃতি ও জাদুবাস্তবতার সূক্ষ্ম বুননে এগিয়ে চলে এই উপন্যাস। ডরমিটরি ১২-এর রহস্যময় বৃদ্ধ, কালো খাতা, নামহীন ক্যাডেটদের সারি, আর এক অদ্ভুত বন্ধুর উপস্থিতি ধীরে ধীরে ভেঙে দেয় সাফল্য, ব্যর্থতা, পরিচয় ও নিয়তির প্রচলিত ধারণা। যে সমুদ্র আমাকে গ্রহণ করেনি কেবল সমুদ্রের গল্প নয়; এটি জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের গল্প। এটি সেইসব মানুষের গল্প, যারা কোনো এক সময় পেশা বদলেছেন, স্বপ্ন বদলেছেন, পথ বদলেছেন—এবং বহু বছর পরে ফিরে তাকিয়ে ভেবেছেন, আমি কি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম? এই উপন্যাসের উত্তর কোনো অলৌকিক ঘটনার মধ্যে নেই। উত্তর লুকিয়ে আছে নিজের জীবনকে গ্রহণ করার সাহসে। গভীর মানবিকতা, দার্শনিক আত্মঅনুসন্ধান এবং বাংলা জাদুবাস্তবতার স্বাদে নির্মিত এই উপন্যাস পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রহস্যে আবদ্ধ রাখে, আর বইটি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন নিজের জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।