

ভ্রমণ আমার কাছে কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে চলা নয়; ভ্রমণ হলো নিজেকে নতুন করে চেনা এবং প্রকৃতির অপার আয়নায় নিজের আত্মাকে আবিষ্কার করা। কক্সবাজারের সমুদ্র ও পাহাড়ের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার সুবাদেই হয়তো নোনা বাতাস আর পাহাড়ের মায়াবী সবুজ আমার রক্তে মিশে আছে। শহরের ইট-পাথরের ব্যস্ততা যখন মনকে ক্লান্ত করে, তখন পথের অনিশ্চয়তা আর প্রকৃতির আহ্বানই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। এই বইয়ে জমা হয়ে থাকা গল্পগুলো কেবল কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার বিবরণ নয়; এগুলো জীবনের কিছু অমূল্য মুহূর্ত, বন্ধুত্ব, ইতিহাস আর সমাজকে দেখার অনুভূতির দলিল। মিরিঞ্জা ভ্যালির মেঘ-পাহাড়ের খেলা আর সুগন্ধা সৈকতের রাতে আলোর পাশাপাশি অন্ধকারের রূপ যেমন আমাকে ভাবিয়েছে, তেমনই শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের অপরূপ সবুজের পেছনে লুকিয়ে থাকা শ্রমিকের ঘাম ও শোষণের সত্য আমাকে ব্যথিত করেছে। লাকসামের সমশেরপুরে আপুর বিয়ের আনন্দ আর দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর শতবর্ষী স্মৃতি ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি আমাকে ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করেছে। আবার জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে চল্লিশ বছর পর দুই বন্ধুর পুনর্মিলনী আর জীবনদর্শনের গল্প কিংবা সোনাদিয়ার নির্জন সৈকতে ‘মেরিনো’র মতো অচেনা সঙ্গীর ভালোবাসা আমাকে শিখিয়েছে, সুখ আসলে কতটা সহজ ও সাধারণ। আমার এই যাত্রাপথে যারা সহযাত্রী ছিলেন, আমার পরিবার, প্রিয় বন্ধুরা, ফোরামের সহযোদ্ধা এবং আমার লেখার সাথে পরিচিত প্রাণের মানুষগুলো, তাদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞ। তাদের সান্নিধ্য ছাড়া এই পথচলা এত আনন্দময় হতো না। বইয়ের পাতাগুলোতে আমি চেষ্টা করেছি প্রকৃতির সেই রূপ, সুবাস আর ভেতরের অনুভূতিগুলোকে শব্দের ফ্রেমে বন্দী করতে। এই লেখাগুলো যদি আপনাকে পাঠের মাঝে মুহূর্তের জন্য হলেও পাহাড়ের ঠান্ডা বাতাসে ভাসিয়ে নেয়, সমুদ্রের গর্জনে রোমাঞ্চিত করে কিংবা ইতিহাসের কোনো নীরব অলিগলিতে দাঁড় করিয়ে দেয়, তবেই আমার এই অক্ষরগুচ্ছ সার্থক হবে। চলুন তবে, শব্দের ডানা মেলে হারিয়ে যাওয়া যাক পাহাড়, সমুদ্র, নদী আর সবুজের সীমানাহীন সাম্রাজ্যে।

"বইটা এক কথায় দারুণ। যারা ভ্রমণ নিয়ে পড়তে ও লিখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই বইটা প্রথম পছন্দ হতে পারে।"
বইটা এক কথায় দারুণ। যারা ভ্রমণ নিয়ে পড়তে ও লিখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই বইটা প্রথম পছন্দ হতে পারে।
Read all reviews on the Boitoi app