
‘ক্ষুধার কোনো নিজস্ব ভাষা নেই, কিন্তু তার যন্ত্রণা ভীষণ তীব্র। সেই তীব্র যন্ত্রণার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যখন মেধা আর আত্মসম্মান বিকিয়ে না দেওয়ার অনমনীয় পণ নেওয়া হয়, তখন জীবন রূপ নেয় এক নিঃশব্দ যুদ্ধক্ষেত্রে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র প্রান্ত—যার সকাল কাটে বিশ্বমানের প্রযুক্তির গবেষণায়, আর রাত কাটে ধূলিমলিন অফিসের মেঝে মোছা আর টেবিল ঝাড়পোঁছ করার কঠিন বাস্তবতায়। গ্রামে ক্রনিক ব্যাধিতে আক্রান্ত বাবার ছেলের সাফল্যের জন্য দিন গুনে চলা, মা ও প্রতিবাদী ছোট বোন অহনার অভাবের সাথে লড়াই, আর অন্যদিকে শহরের ধনীর দুলালী ইরার নিখাদ ভালোবাসা—এই দুই বিপরীত মেরুর মাঝে পিষ্ট প্রান্ত। জীবন যেখানে প্রতি পদক্ষেপে অপমান আর করুণার পাত্র বানিয়ে রাখতে চায়, সেখানে আত্মসম্মান বাঁচিয়ে বেঁচে থাকার আসল খোরাকটা কী? নিছক একমুঠো অন্ন, নাকি পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজের স্বপ্ন ও অস্তিত্বকে তিলে তিলে বিসর্জন দেওয়া? সামাজিক শ্রেণিভেদ, দারিদ্র্যের নির্মমতা এবং এক যুবকের বুকচাপা কান্নার আড়ালে বেঁচে থাকার গল্প—‘খোরাক’। “ক্ষুধার সামনে মেধা বড্ড অসহায়... কিন্তু যে নিজেকে খোরাক বানিয়ে পরিবারকে বাঁচায়, সমাজ তাকে পরাজিত করতে পারে না।”’