
গন্ধরাজের সাদা ফুলে ভরা এক অচেনা বাগানে নিষাদের পাশে বসে শওকত ফুল গেঁথে মালা বানাচ্ছিল। গন্ধরাজের মালা। নিষাদের সাথে প্রথম আলাপে গন্ধরাজ ফুল ছিল তাদের খুব স্পেশাল একটা জিনিস। পৃথিবীর অনেক দেশেই অর্কিড কিংবা টিউলিপ অথবা নানান ফুলের বাগান আছে, কিন্তু কোথাও কি কেবল গন্ধরাজ ফুলের বাগান আছে? শওকতের জানা নেই। তবে এই বাগান কোথায় খুঁজে পেল সে? খুব যত্ন করে মালাটা গাঁথছে সে। নিষাদ মৃদু হেসে বলল— — এ মালাটা কিন্তু আমার জন্য। তুমি অন্য কাউকে দেবে না, খবরদার। শওকত মালাটা তার হাতে পরিয়ে দিতে গিয়েই দেখল, নিষাদের হাতে ইতিমধ্যেই একই রকম আরেকটি মালা। কিন্তু সেই মালায় গাঁথা ফুলগুলো শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে। সেই সাথে নিষাদের হাতে গভীর ক্ষত। শওকত অবাক হয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে, তক্ষুনি নিষাদ আচমকা ছিটকে দূরে সরে গেল। বাগানের এক প্রান্ত থেকে তার প্রিয়তমা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে, আর তার পায়ের নিচে ঝরে পড়ছে একের পর এক গন্ধরাজ। শওকত প্রাণপণে দৌড়ে নিষাদকে ধরতে ছুটে গেল, কিন্তু যত এগোয়, নিষাদ তত দূরে চলে যায়। একেবারে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে শেষবার ফিরে তাকিয়ে শওকতের চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু বলল, “আমাকে ধরে রেখো না শওকত, আমার সময়টা তোমার স্বপ্নের চেয়েও ছোট।” ঠিক তখনই ঘুম ভেঙে গেল শওকতের। বুকের ভেতর অজানা এক ভয়, অথচ কী আশ্চর্য! ঘরজুড়ে ছড়িয়ে আছে গন্ধরাজের তীব্র সুবাস। সে বুঝতে পারল না কেন এমন মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম অস্থির লাগছে তার। ঠিক সেই মুহূর্তে তার মনে হলো, নিষাদকে যত দ্রুত সম্ভব তার দেখতে হবে, যেন তাকে হারিয়ে ফেলার আগে শক্ত করে ধরে রাখা যায়। যেকোনো মূল্যেই হোক, নিষাদকে হারানো যাবে না। না, না, না।