

ফুল পাগলের মতো জোরে জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে ‘না’ ‘না’ করতে লাগল। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে গোঙানির সুরে বলতে চাইল, ‘মারবেন না… আমাকে মারবেন না। আমাকে বাঁচতে দিন, আমাকে বাঁচতে দিন!’ ফুলের এটুকু কথা বুঝে নিল উদ্যান। সে বন্দুকের নলটা ফুলের থুতনি থেকে স্লাইড করতে করতে গলার ওপর দিয়ে নিচে নামিয়ে এনে ঠিক বুকের বাম পাশে চেপে ধরে বলল, “আমি না খুব অবাক হলাম জানিস তো, আমার বাবাকে মেরে ফেলেও তুই বেঁচে থাকতে চাইছিস এটা জেনে। আমার ধারণা ছিল তুই নিজে থেকেই মরে যেতে চাইবি। এই! কয়েকমাস আগেও না তুই মরে যেতে চেয়েছিলি? বলেছিলি না, ‘আমাকে মেরে ফেলুন, আপনাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না।’ তবে এই কয় মাসে কী এমন হলো যে এখন তুই বাঁচার জন্য এত তড়পাচ্ছিস? নাকি আগে ওইসব ভালোমানুষির নাটক করে আমার সহানুভূতি পেতে চেয়েছিলি, কোনটা?” ফুলের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় নোনাজল ঝরছে। সেই অশ্রুজলে চোখ বেঁধে রাখা কাপড়টা সম্পূর্ণ ভিজে সিক্ত হয়ে গেছে। উদ্যান চোয়াল শক্ত করে, দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে বলল, “তুই বেঁচে থাকতে চাইছিস যার মানে তোর মরে যাওয়াটাই উচিত। আমি মেরে ফেলব তোকে।”