

কতিপয় অগ্নিপূজক ও দ্বৈতবাদীর হাতে গঠিত হয় ইসমাইলি মতবাদ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে বিলুপ্ত করে দেওয়া। কেননা তখন পর্যন্ত তাদের ধর্মের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি হেনেছে ইসলাম। তাদের ধর্মীয় অস্তিত্ব উড়িয়ে দিয়ে মুসলমানরা তাদের ভূমি পারস্যও করায়ত্ত করেছেন। তাই সামনাসামনি প্রতিশোধের সামর্থ্য না থাকায় তারা আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত জাহির করে নিজেদের সৃষ্ট মতবাদকে ইসমাইল বিন জাফর সাদিক রহ.-এর দিকে সম্বন্ধ করে। বিধান হিসেবে বাতেনি শরিয়তকে সামনে হাজির করে। আকিদা হিসেবেও অগ্নিপূজা ও দ্বৈতবাদের কুফরি আকিদাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করে। ফলে এরা শিয়াদের অবয়ব নিয়ে হাজির হলেও অভ্যন্তরীণভাবে সংগঠিত হতে থাকে অকাট্য কাফেররূপে। ইসমাইলিদের মৌলিক দুটি দল ফাতেমি ও কারামিতি। পরবর্তী সময়ে ফাতেমিদের শাখা দল হিসেবে দ্রুজি, বুহরা ও হাসান বিন সাব্বাহের নিজারি ফিরকা অস্তিত্ব লাভ করে। ফাতেমি ও কারামিতি উভয় সম্প্রদায় তাদের শাসনামলে মুসলমানদের গণহত্যা এবং ইসলাম ধ্বংসের নরকীয় খেলায় মেতে উঠেছে। বাতেনি শরিয়তের নামে ইসলামের বিধিবিধানের চূড়ান্ত অবমাননা করেছে। এ ভয়ংকর ইসমাইলি ফিরকা ও তাদের শাখা-প্রশাখার আদ্যোপান্ত, দাওয়াত-পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, শাসনব্যবস্থা, মুসলমানদের গণহত্যা ও ইসলাম ধ্বংসের যাবতীয় ইতিহাস এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। সেই সঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে তাদের বর্তমান অবস্থান ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব সম্পর্কেও।