
অবশেষে এল ডক্টর। এসে অল্পবয়সী রোগীটিকে শ্যেন দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ পরখ করল। তারপর হ্যাসকি গলায় বলল, “তুমি কি জানো, তুমি যেটা করছ, সেটা যে সুইসাইড অ্যাটেম্পট?” মেয়েটা ওই দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা আর কণ্ঠের তেজ সইতে না পেরে চোখ নামাল। নিজের হাতের ক্যানুলার দিকে তাকিয়েই উত্তর দিল, “আমারটা যদি সুইসাইড অ্যাটেম্পট হয়, তবে এ অবধি আসার পেছনে আপনার যে অবদান, সেটাকে কি অ্যাটেম্পট টু মার্ডার বলা হবে না, ডক্টর?” তরুণ চিকিৎসকের চশমার আড়ালে চোখ দুটো যেন আরেকটু কঠিন হলো। রোগীর হাতে অক্সিমিটার লাগিয়ে ভারী অসন্তোষ নিয়ে বলল, “আমি তোমাকে কাদা থেকে বাঁচাতে চাইলাম, অথচ তুমি ঝাঁপ দিলে চোরাবালিতে। আর দোষটা হলো আমার?” “কষ্ট দিলে দোষের ভাগ তো প্রাপ্যই।” “নিজ জেদে দুঃখদের আমন্ত্রণ জানিয়েছ তুমি। আমি শুধু প্রশ্রয় দিইনি, এই যা।” মেয়েটা অভিমানী গলায় বলল, “আপনি কতশত রোগী দেখে বেড়ান, অথচ আমার যে ওমন অসুখ হলো, আপনি আমাকে একটাবার দেখতে আসেন নি। আপনি এত নিষ্ঠুর! অথচ আমি শুনেছি ডাক্তাররা খুব সদয় হয়।” “একটাসময় সদয় হয়ে দেখেছিলাম, লাভ তো হলো না। এবার না-হয় নিষ্ঠুরই হয়ে দেখি।” অক্সিমিটার খুলে চাপা শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল। নিজের ঘর ছাড়ার আগে সৌম্যদর্শন পুরুষ বলল, “ওষুধ লিখে দিয়ে যাচ্ছি। যদি ইচ্ছে হয় তবে নিজের খেয়াল রেখো। আসি।” “আপনি আমার খোঁজ না নিলে আমিও নিজের খোঁজ নেব। আপনার ঘরেও থাকব না।” মেয়েটা রুদ্ধশ্বাসে বলল।