

মানুষের জীবনে প্রিয় মানুষের উপস্থিতি সব সময় চিরস্থায়ী হয় না। কোনো সম্পর্ক থাকে না চিরদিন। ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়েই এগোয় ছোট্ট এ জীবন। মানুষ এতে অভ্যস্ত। এই অভ্যাস তৈরি হয় শৈশব থেকেই। প্রাণপণ চেষ্টায়ও ধরে রাখা যায় না টায়ার চালানো দিন, ফড়িংয়ের পেছনে ছোটা গোধূলিবেলায়...। আমরা যত বড় হই জীবন থেকে ক্রমেই হারিয়ে যেতে থাকে আমাদের প্রিয় চরিত্রেরা। তবে মানুষটা হারিয়ে গেলেও রেখে যায় ময়ূরের ডানা, গোলাপি টিপ, মন কেমন করা স্মৃতি...। ভালোবাসার মানুষটার কপালে টিপ জমায়নি এমন প্রেমিক খুঁজে পাওয়া দায়! হয়তো সম্পর্কটা টেকেনি, হয়তো হারিয়েছে সমুদয় অধিকার, কিন্তু বসন্ত বিকেলে শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে পরা ছোট্ট টিপটা থেকে গেছে মানিব্যাগে, ক্যালেন্ডারের পাতায়। যে টিপ হঠাৎ হঠাৎ ভীষণ আবেগতাড়িত করে দেয়, ঝড় তোলে পরাণের গহীন ভেতর! বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা প্রিয়জনের স্পর্শ লেগে থাকা আস্ত গোলাপ যখন বেরিয়ে আসে নির্ঘুম কোনো রাতে, কত কথা মনে পড়ে যায়, কত ব্যথা জাগে বুকে...! এভাবেই না কি জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম মোছা রুমাল, রাত জেগে লেখা চিঠি, দাঁতের আঘাতে থেতলে যাওয়া কলমের খাপ, ক্লিপে লেগে থাকা চুলের ঘ্রাণ—হারানো প্রিয় মানুষটাকে জাগিয়ে রাখে বুকে, কিছুতেই তারে দেয় না হারাতে! পরিস্থিতির চাপে, মামুলি ভুল বোঝাবুঝিতে কিংবা জীবনের অমোঘ টানে প্রিয় মানুষটা হয়তো চলে যায় জীবন থেকে, হয়তো শেষবার ‘ভালোবাসি’ কথাটাও বলা হয় না, কিন্তু বুক-পাঁজরে থরেথরে সাজানো স্মৃতি তারে ভুলতে দেয় না কিছুতেই। টুকরো উপহার, কাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, একসঙ্গে হেঁটে চলা হেমন্ত বিকেল তাকে বাঁচিয়ে রাখে প্রতিটা দুপুর, কত যে বছর...! গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ তার শেষ চিঠিতে হয়তো সেই সব প্রেমিক হৃদয়ের উদ্দেশেই লিখে গেছেন, ‘আজকের পর সব সময় আগামীকাল আসে, আর জীবন আমাদের ভুল শুধরানোর সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আমি যদি ভুল হই আর আজই যদি জীবনের শেষ দিন হয়, আমি তোমাকে বলতে চাই, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি আর আমি তোমাকে কখনোই ভুলব না।’
