

নিঝুম রাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র পল্লব শুনতে পায় এক তীব্র, চাপা আকুতি, “বাঁচাও!” ভীতি কাটিয়ে দেওয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢুকে সে উদ্ধার করে নির্মম নির্যাতনের শিকার এক অসহায় তরুণী নীলাকে। নিজের মায়ের ইস্ত্রি করা প্রিয় শাড়িটি মেয়েটির গায়ে জড়িয়ে সেই রাতে নিজ ঘরে আশ্রয় দেয় পল্লব ও তার মা শামীমা ইয়াসমিন, যিনি একজন আদর্শবান শিক্ষিকা। কিন্তু সকালে জানা যায়, এই অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ রতন চেয়ারম্যান এবং তাকে ছত্রচ্ছায়া দেওয়া দুর্নীতিবাজ ওসি সাইফুর রহমান। অপরাধকে ঢেকে রাখতে শামীমা ম্যাডামকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, পুরো পরিবারটিকে সমাজ থেকে একঘরে করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তবে অন্যায়কে মুখ বুজে মেনে নেওয়ার পাত্রী শামীমা নন। তিনি ও পল্লব লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের এই অসম লড়াইয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় নির্ভীক ক্রাইম রিপোর্টার নোশিন, সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক অয়ন এবং একজন সৎ, আপসহীন পুলিশ অফিসার এসআই বিলকিস। বন্ধ ফ্যাক্টরির জং ধরা শিকল ও তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয় অপরাধের রক্তমাখা সব প্রমাণ। কিন্তু ক্ষমতার লম্বা হাত যখন আইনের পথকে আবার অবরুদ্ধ করতে চায়... ‘শিকল ভাঙার শব্দ’ কেবল একটি অপরাধের বিচারের গল্প নয়; এটি এক মায়ের অদম্য সাহস, এক যুবকের মানবিকতা, সত্যের পথে অটল থাকা কিছু মানুষের সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুরো একটি দেশের গর্জে ওঠার অনুপ্রেরণাদায়ক উপাখ্যান।