

শায়ের প্রভার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলল, “গায়ে হাত দেবো না, তাহলে কোথায় হাত দেবো?” “কোথাও না। মোটেই ছোঁবেন না। আমার ভালো লাগে না এসব।” শায়ের বাঁকা সুরে বলল, “ছোঁয়া যাবে না, তাইলে শক্ত করে ধরব।” “না, তাও না।” “তাইলে বিয়া করছো ক্যান? তুমি তো এক্কেবারে নাদান বাচ্চা না, তাই না? বিয়ের পর বর বউরে স্পর্শ করে, এইডা তো জানা কথা। বিয়ের রাতে বাসর হয়। আরও মেলা কিছু হয়। এ তো অজানা না। আমি তো তোমারে ছোঁয়ার লাইগাই বিয়া করছি। একটা জোয়ান পোলা বিয়ের পর বউ ছোঁবেনা, এমন আবদার কেমনে করো, সেইডাই তো বুঝি না।” প্রভা কেমন যেন ভয় পাচ্ছে। সে গুটিসুটি মেরে বসে পড়ে বলল, “আমি জানি না কিছু। কিছু জানি না।” শায়ের ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “ক্যান, এই বিয়েতে তুমি রাজি ছিলা না?” প্রভা দুই হাঁটুর মাঝে মাথা গুঁজে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “ছিলাম।” প্রভার কান্না বড় অদ্ভুত লাগছে শায়েরের কাছে। এইভাবে কান্দে ক্যান? আসার সময় তো কানল না। এহন কাঁন্দে ক্যা? এ কি যন্ত্রণায় পড়লাম! শায়ের প্রভার কাছে গিয়ে বসে বলল, “অন্য কাউরে পছন্দ আছে?” “না।” “তাইলে বাসর ঘরে স্বামী গায়ে হাত দেবে না তো কী করবে?” প্রভা অন্যদিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, “আপনি ঘুমান।” শায়ের বাঁকা সুরে বলল, “আহা সোনা গো আমার! ষাট হাজার টাকা কাবিন দিয়ে বিয়া করছি ঘুমানোর লাইগা?” প্রভা কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে বলল, “তাইলে?” “আব্বা ডাক শোনার লাইগা।” “দেখুন, আমার মাথা ঘোরাচ্ছে, বমি পাচ্ছে, অশান্তি হচ্ছে। আমার থেকে দূরে যান।” শায়ের মনে মনে বলল, ‘বিড়াল দেখছি প্রথম রাতেই মারতে হবে। মেয়ের ভাব ভালো না। এত লজ্জা হইলে সংসার হইবো ক্যামনে?’
