

জোর করে গড়ে তোলা একটি সম্পর্কের শেষ পরিণতি কি কখনো স্বাভাবিক, সুন্দর হতে পারে? রুশভিয়ান নিজের ইচ্ছেতেই ইনানকে বিয়ে করেছিল। তার কাছে সেই সম্পর্ক ছিল অধিকারের, অথচ ইনানের কাছে তা ছিল অনিচ্ছার এক দীর্ঘ কারাবাস। ভালোবাসা যেখানে জন্ম নেয়নি, সেখানে দিনের পর দিন জমেছে ক্ষোভ, অভিমান আর অসহ্য এক বন্দিত্ব। অবশেষে সেই বন্দিত্বেরই কি রক্তাক্ত পরিণতি ঘটেছিল? আর সেই রাতে রুশভিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ইনান। তার চোখে ছিল না কোনো মায়া, কণ্ঠে ছিল না কোনো অনুনয়। ছিল কেবল এমন এক কঠিন সিদ্ধান্ত, যার পর আর ফিরে যাওয়ার কোনো পথ ছিল না। তারপর রুশভিয়ানের জীবন থেমে গেল। সবকিছুই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছিল—খুনি ইনান। একজন নারী, যে কখনো সেই পুরুষকে ভালোবাসেনি, যে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বাঁধা পড়েছিল সেই সম্পর্কে। শেষ পর্যন্ত কি নিজের মুক্তির জন্যই কেড়ে নিয়েছিল তার জীবন? কিন্তু মৃত্যুর আগে রুশভিয়ান যে সত্যটি জানত, সেটিই কি এই গল্পের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায়? তাহলে কি সত্যিই ইনান নিজের হাতে হত্যা করেছিল সেই মানুষটিকে, যে ছিল তার অনাগত সন্তানের পিতা? নাকি একটি মৃত্যুর আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কোনো সত্য, যা প্রকাশ পেলে ইনানের অপরাধের অর্থটাই বদলে যাবে? সত্যিই কি সে তাকে মেরেছিল? নাকি মৃত্যুর সেই রাতটিই একদিন প্রমাণ করবে, সবচেয়ে নিশ্চিত সত্যটিও কখনো কখনো সম্পূর্ণ সত্য নয়?