
ফুলনাহার থেকে নায়িকা ফুলমণির ঝলমলে জীবন তরিকুলের জীবন নরকে পরিণত করেছিল। আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছে। আদালত চত্বরের এক পাশে আছে। মুখে কাঁচা-পাকা দাড়ি। অধিকাংশ-ই পাকা দাড়ি। পরাণ জিড়িয়ে ধরে বলল, ‘আব্বা, আব্বা দেখো তুমার পরাণ কত বড় হয়ে গেছে। আব্বা তোমার পরাণ এখন গোলাপিদের বাড়ির টিলায় দলবল নিয়ে দাঁড়িয়ে আক্রমণ করে না আব্বা। আব্বা তোমার পরাণের আর মার্বেল খেলার বয়স নাই বলে তারে কি তুমি মার্বেল কিনে দিবা না?’ পরাণ বাবার সামনে এক কাপ চা আর বনরুটি এনে রাখল। তারপর ছোট্ট ছেলের মতোই বনরুটির টুকরো চায়ে ডুবিয়ে বাবার মুখের সামনে ধরে বলল, ‘আব্বা, খাও।’ তরিকুল ছেলের হাত থেকে রুটি টানিয়ে চুপচাপ বাচ্চা ছেলেটির মতো করে খেতে লাগল। পরাণও বারবার রুটির টুকরো চায়ে ভিজিয়ে বাবাকে খাইয়ে দিতে লাগল। পরাণকে আড়তে বসিয়ে এভাবে নিজের হাতে চা আর বনরুটি খাইয়ে দিতো। খাওয়াতে খাওয়াতে গুণের নামতা মুখস্থ ধরত। ‘আব্বা, নয়-এর ঘরের নামতা কি তোমার এখনো মনে আছে?’ তরিকুল ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলো মুগ্ধ হয়ে, তার ছেলে পরাণ, ব্যরিস্টার পরাণ। পরাণ নিজেই বলতে শুরু করল, ৯×১=৯... ৯×২=১৮... তারপর বাবার হাতটা ধরে বলল, ‘আব্বা, তুমি আমাকে আগের মতো আড়তে বসে নামতা মুখস্থ ধরবা না? নাকি মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে, আব্বা?’