

ভালোবাসার কাছে পরাজয় হয় দুটি মানুষের। জারুল আর দিগন্ত। রাতে দু'জন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। গোপনে ই বিয়ে করবে তারা, সময় হলে পরিবারকে জানাবে। রাতটা যেন অস্বাভাবিকভাবে নিস্তব্ধ হয়ে আছে। নিকলী হাওরের কালচে জলের ওপর চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। দূরে কোথাও রাতজাগা পাখির ডাক, মাঝেমধ্যে পানির গায়ে বাতাসের মৃদু আঘাত—সব মিলিয়ে চারপাশে এমন এক স্তব্ধতা, যেন প্রকৃতিও নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে। জারুল দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির পেছনের উঠানে। দিগন্ত তার কয়েক হাত দূরে। আজ তার চোখে সেই পরিচিত দুষ্টুমি নেই। নেই ঠোঁটের কোণে চিরচেনা হাসি। মুখটা অস্বাভাবিক কঠিন। জারুল একবার তাকিয়েই বুঝে গেল—আজ দিগন্ত কোনো সাধারণ কথা বলতে আসেনি। “কী হয়েছে?” দিগন্ত উত্তর দিল না। কয়েক মুহূর্ত শুধু তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর ধীর, ভারী কণ্ঠে বলল, “আজকেই আমরা বিয়ে করব।” জারুলের বুকের ভেতর যেন আচমকা কোনো বিস্ফোরণ ঘটল। “কী?” “আমি তোমাকে আজ বিয়ে করতে চাই।” জারুলের মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। “তুমি বাড়িতে বলেছ?” দিগন্ত নিশ্চুপ। সেই নীরবতাই যথেষ্ট ছিল। জারুলের চোখে আতঙ্ক নেমে এল। “দিগন্ত, আপনি কী করতে যাচ্ছেন?” দিগন্ত এক পা এগিয়ে এল। “যেটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল।” “কিন্তু আপনার পরিবার?” “আমি সামলাব।”