

“শুনলাম তোর নাকি বিয়ে?” “হু, কথা চলছে।” রাফি ভাই কিছুক্ষণ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলেন। একদম সহজ ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন আছিস, বিন্তি?” আমি তাকালাম। বারো বছরে মানুষটা অনেকটা বদলেছে। জবাব দিলাম, “আছি ভালোই।” রাফি ভাই একটু থেমে চশমাটা নাকের ওপর সামান্য ঠেলে দিয়ে মৃদু কৌতুকের সুরে বললেন, “আমি কেমন আছি, জিজ্ঞেস করলি না?” আমি উনার দিকে সরাসরি না তাকিয়ে দিঘির শান্ত জলের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলাম, “ভালোই তো আছেন দেখছি।” “তুই এখন এত কম কথা বলিস, বিন্তি? তখন তো আমার মাথার পোকা নাড়িয়ে ফেলতি কথা বলতে বলতে! তোর বকবকানি থামাতেই তো পারতাম না।” আমি একচিলতে বিষণ্ণ হাসি হেসে পিতলের ভারী কলসটা কোলে আরও একটু শক্ত করে চেপে ধরলাম। বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাওয়া একরাশ দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বললাম, “তখন আর এখন তো এক না, রাফি ভাই। অনেক কিছু বদলে গেছে। সময় বদলেছে, আমরাও বদলে গেছি।” কথাটা শুনে রাফি ভাই কিছুক্ষণ একদম চুপ করে রইলেন। হঠাৎ উনি আমার চোখের দিকে এক বিভ্রান্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “কোনটা বদলানোর কথা বলছিস, বিন্তি? সেই যে... বুনো ফুলের মালা? আমি তোরে বিয়ে করেছিলাম, বউ বলতাম... হাহা! সেই অবুঝ বোকা মেয়েটার কথা বলছিস?” কথাটা বলেই রাফি ভাই খুব সহজভাবে হেসে উঠতে চাইলেন, যেন শৈশবের এক তুচ্ছ রসিকতা ছাড়া এটি আর কিছুই নয়। কিন্তু উনি হাসতে চাইলেও উনার চোখের একদম গভীরে কিছু একটার ছায়া স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে গেল...
হাওয়াই মিঠাই।
Read all reviews on the Boitoi app