

"ভালোবাসা কি তবে সবসময় মানুষকে মিলিয়ে দেয়, নাকি কখনো কখনো ভালোবাসার চরম প্রকাশটাই দূরে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর হয়?" নদীর পাড়ের নিঃস্ব কুঁড়েঘরের শ্যামলা মেয়ে সাথী আর শহরের তালুকদার বাড়ির ফর্সা, পরোপকারী যুবক সায়ান—দুটি ভিন্ন পৃথিবীর মানুষ যখন একে অপরের প্রেমে মজেছিল, তখনো কেউ জানত না নিয়তি তাদের জন্য কোন রক্তস্নাত ট্র্যাজেডি লিখে রেখেছে। মরণব্যাধিতে আক্রান্ত সায়ান যখন বুঝতে পারল তার হাতে আর সময় নেই, তখন সাথীকে নিজের মৃত্যুর যন্ত্রণায় একা রেখে যাওয়ার চেয়ে সে বেছে নিল এক নিষ্ঠুর পথ। ভালোবেসেও সাথীকে 'সস্তা মেয়ে' বলে দূরে ঠেলে দিল সে, যেন ঘৃণার আশ্রয়ে সাথী তাকে ভুলে বাঁচতে পারে। কিন্তু সেই মিথ্যা ঘৃণার আগুনে পুড়ে অভিমানী সাথী বাধ্য হয়ে নিজেকে সঁপে দিল শ্যামলপুর গ্রামের পিশাচ জমিদার রুদ্র প্রতাপ চৌধুরীর হাভেলিতে। এরপর এল সেই অভিশপ্ত দুপুর—যে দুপুরে লাল বেনারসিতে মোড়ানো সাথীর পালকি আর সায়ানের সাদা কাফনে ঢাকা নিথর লাশের খাটিয়া মুখোমুখি হলো মেঠো রাস্তায়! সায়ানের শেষ চিঠি যখন উন্মোচন করল সব না-বলা সত্যি, তখন কান্নার বাঁধ ভেঙে জন্ম নিল এক প্রলয়ঙ্করী প্রতিশোধের। প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি, আত্মত্যাগ এবং এক অভাবনীয় রক্তক্ষয়ী পরিণতির রোমহর্ষক উপাখ্যান—‘লাল শাড়ি পড়িয়া কন্যা’।