

গ্রামের সুন্দরী মেয়ে সাবিহাকে ভালবেসে বড্ড দুঃসময়ে বিয়ে করে দিন মজুর নজু। সে সময় উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় খরায় নষ্ট হেয় যায় খেতের সব ফসল। দিন মজুররা সব হয়ে পড়ে কর্মহীন। পেটের ক্ষুধা মেটানোর কোন রাস্তাই আর তাদের জন্য খোলা থাকে না। উপায়ন্তর না দেখে নব বিবাহিতা বধুর পেটের ভাত আর মোটা শাড়ীর জন্য সত্য গোপন করে নজু শুয়ে পড়ে স্থায়ী বন্ধ্যাকরনের অপারেশন টেবিলে। তার পিতা হবার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ্যা মেয়ে হিসেবে শাশুড়ি আর গ্রামের মানুষের কাছে সাবিহা শারীরিক আর মানসিক ভাবে লাঞ্ছিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার মা হবার বাসনা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মীর কাছে জেনে নিয়ে সে মা হবার জন্য বিকল্প পথ বেছে নেয়। গর্ভধারনের জন্য উপযুক্ত দিনগুলিতে সে মেলামেশা করে পর পুরুষের সাথে। এভাবে সে গর্ভবতী হয়ে পরে। সব কিছু জানার পর নজু নিজের ভালবাসা আর মহত্ত দিয়ে সাবিহাকে ক্ষমা করে দেয়। কিন্তু সমাজ,সংস্কার আর লোক লজ্জার ভয়ে গোপনে গ্রামের কবিরাজ দিয়ে সে সাবিহার এ্যাবরশন করায়। ইনকমপিট এ্যাবরশনের কারনে সাবিহার দেহাভ্যন্তরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। যা থেকে প্রায়শই রক্ত ঝরতে থাকে। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে। তিস্তা বিধৌত মঙ্গা পীড়িত এলাকার আশির দশকের শেষের দিকের ঘটে যাওয়া একটি অন্য রকম ভালোবাসার নির্মম সত্য কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে "মরা কার্তিকের কাব্য" উপন্যাসটি। নির্মম বাস্তবতা, দারিদ্রের কষাঘাত,মঙ্গা আর তিস্তা পারের লোকদের জীবনচিত্র শিল্পীর আঁচড়ের মতো ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে। উপন্যাসটির নাম হয়তো বা হতে পারতো "ক্ষুধা মঙ্গা প্রেম"। তবে হৃদয় দিয়ে অনুভব করলে "মরা কার্তিকের কাব্য" হতে পারে এক অনন্য প্রেম ভালবাসার মহাকাব্য।