

আলাদিনের কেউ নেই। আলাদিনের কেউ কখনই ছিলোনা। আলাদিনের মতন অমানুষদের জন্য কেউ থাকেনা। হায়রে। আলাদিন পকেট থেকে দেশলাই বক্সটা বের করে। কেরোসিন দিয়ে ভেজায় নিজের আর নুসরাতের শরীর। নুসরাতকে কাছে টেনে বলে 'ভালোবাসি। শোন অনেক গল্প আছে। মন দিয়ে শুনবা কিন্তু। আচ্ছা ?' এরপর আগুন জ্বালায়। জ্বলতে থাকে সবকিছু। বাইরে থেকে লোকজন শুনতে পায় আলাদিনের চিৎকার। শরীর পড়ার যন্ত্রনা ভয়ংকর। কি অদ্ভূত আলাদিনের প্রেম। কি ভীষণভাবে নিজেকে শেষ করে দেওয়া। জয়তু আলাদিন। আলাদিন জিন্দাবাদ। আলাদিন পুড়ুক। পুড়ে পুড়ে মরুক। মরেই শান্তি পাক। জীবিত থাকাকালে তো পুড়তেই হয়েছে সারাক্ষণ......। 'আলাদিন জিন্দাবাদ' বইয়ের গল্পগুলো এমনই। শীতলপাটি বিছিয়ে কোন এক বিষন্ন বিকেলে কোন এক, কারো একজনের কাছ থেকে শোনা ভালোবাসার, হতাশার আবার ঠিক ঠিক আশাবাদী হবার গল্প। অপভ্ৰংশ, পাতার নৌকায় দৃশ্যপট, গুল্লি, আলপিনে কুয়াশা, দিনলিপি রাতলিপি, দেশলাই জীবন, শিরোনাম ডায়রী, জমাটি দুঃখ সুখ, রক্ত-কষ্ট-শোক, ত্রিচারিনী, পুরুষরা এবং নারী, আলাদিন'র গল্পগুলোতে আছে অন্ধকার ঘর, কবর, শোক আর সবশেষে এক টুকরো আলো যা মায়ার পরশ বুলিয়ে যায় মননে। 'আলাদিন জিন্দাবাদ' জ্যান্ত একটি শহর। সেই মাটির, পিচের আর যান্ত্রিকতার শহরে সবাইকে আমন্ত্রণ। আবেগের এই শহরে যাত্রা শুভ হোক। শুভ কামনা