

গল্পগ্রন্থ স্বর্ণভূমি – তে লেখক আরো পরিণত , শাণিত । চৌদ্দটি গল্পে স্বর্ণভূমির জায়গা – জমি নির্মিত । সমতল থেকে পাহাড় লালমাই অবধি বিস্তৃত গল্পের ভূখণ্ড । অচরিতার্থ প্রেমের এক অনন্য গল্প বয়ন হয়েছে ‘অসুখের গান’ – এ ; এই তো গল্প যা পড়ে পাঠক বোধ করে জীবন ঠিক এমন নয় তবে এমন হতেও পারে । কোলাহলের কারাগার – বাস্তবে আর সোনার হরিণের স্বপ্নে স্বর্ণভূমি আরো স্বর্ণাভ হয় যেন । নিসর্গসবুজ উদ্ভাসনে গল্পের মাঠ – ঘাট – দিগন্ত আরো নিবিড় একান্ত হয়ে উঠে । ‘পত্রকথন’ – এর অবয়বে বকুল ফুল অজানিতে যেন আমাদের কাছেও মন খারাপ করা রঙবাহার নিয়ে উপস্থিত হয় । আর ‘কুচুরিপানায় জীবন’ – এর মতো গল্প যে গল্পকার লিখতে পারেন সে নিশ্চয়ই অনেক দূর যাবে । একটা এলেবেলে মানূষ তোজাম্মেল ভালোবাসার সোনার রেখায় যেভাবে দশের ভিড়ে একাদশ হয়ে ওঠে তাকে লেখক অনন্য শিল্পদক্ষতায় চরিত্র হিসেবে নির্মাণ করে তোলেন । তোজাম্মেলের মতো আমরাও তখন বলে ওঠি – কচুরিপানা জীবনের চেয়ে মরে যাওয়া ভাল । নাম গল্প ‘স্বর্ণভূমি’তে লেখক তার স্বর্ণস্বাক্ষর রাখলেন যেন । এক দিনের নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে সমকালীন কেঁচোবাস্তবে বেঁচে থেকে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যাওয়া লেখককে প্রতিতূল্য করে সময়ের সামগ্রিক মৃত্যুলক্ষণকেই ইঙ্গিত করেন গল্পকার যেখানে একদিন বয়সী শিশুর মৃত্যু নিরুপায় লেখককে নতুন একটা গল্পের প্লট দেয় মাত্র । এভাবেই কিঙ্কর আহ্সান তার নিজস্ব কথাকতা ও ভাষার রক্তে – সংবেদের বলে অনায়েসে আমাদের কন্ঠ থেকে ধবনি তোলেন – বাংলা ছোটগল্প মরে যায়নি , এই তো একজন সুগাল্পিকের সন্ধান পাছি ।