

সাথে পালা দিয়ে চলছে গিটারের ঘ্যাং ঘ্যাং সুর। শ্রেয়া ব্যালকনির গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে রোদের কড়া নৃত্য। সুনসান শূন্য বাসা। কেউ নেই। আব্বু-আম্মু বাইরে। কিছু ভালো লাগছে না ওর। ওর বারবার মনে হচ্ছে জানালার গ্রিল দিয়ে পাখির মতো ফুরুত করে উড়ে চলে যায় অনিন্দ্যের কাছে। ওর সেদিন কত শত অনুরোধ করা সত্যেও বেরোতে পারল না। বড় মনে পড়ছে ওকে। আম্মুকে বললে কী একটু যেতে দিত না! হয়তো। ধ্যাৎ, বোকামি করেছি আমি। কী করব, কিছুই তো ভালো লাগছে না। ফোন দেব? নাহ... ফোন দিলে ও এখন আমার ওপর রাগ ঝাড়বে। যাই, টিভি দেখি গিয়ে। শ্রেয়া টিভিরুমে যেতে যেতে আর গেল না। ইয়েস, আইডিয়া। আমি অনিন্দ্যের পাঠানো প্রথম এসএমএসগুলো পড়ব। তবে এসএম এস বলবা না, ও তো গরুর মতো লেখে। পড়তে পড়তে রাত কাবার। ব্যালকনিতে হেলান চেয়ারে বসে শ্রেয়া তার মোবাইলের বাটন টিপছে। এসএমএসগুলো বের করতে ওর খানিকটা সময় লেগে গেল। কারণ, ও এগুলো লক করে রাখে। বলে রাখা ভালো, অনিন্দ্য-শ্রেয়া পূর্বপরিচিত। শ্রেয়ার আম্মুর ছাত্র হওয়ার সুবাদে। যেদিন অনিন্দ্য প্রথম ওদের বাসায় গেল, সেদিনই অনিন্দ্যকে ভালো লেগেছিল শ্রেয়ার। সে কথা ওই আমাকে বলেছিল। ও সেদিন মনে মনে বলেছিল, আমি পাইলাম আমাকে। যদি বা না সে অন্যের হয়ে থাকে। তারপর ওকে যত যল্পনা আর কল্পনা। তা কি আর শেষ হয়! দিবাস্বপ্ন, রাত্রস্বপ্ন আর আমার সাথে শেয়ারিং। কিন্তু ভাগ্যিস শ্রেয়া জানত না অনিন্দ্য আমারই একটি পার্ট। আমার বন্ধু। না হলে তো আমাকে দিয়েই সব কিছু করিয়ে নিত ও। কিন্তু এই বুক পোড়া মেয়েটি কখনো প্রায় সামনেই যেত না ওর। দু-একবার সামনাসামনি সোফায় বসা আর ওই দূর থেকে চোখাচোখি। আসা-যাওয়ার মাঝে অনিন্দ্যেরও শ্রেয়াকে ভালো লেগে গেল। বলতে গেলে হয়তো প্রথমেই লেগেছিল। তবে আমি জানার কালক্ষেপণ আর কি। একদিন শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওর সাথে ঘুরতে গিয়েছি বিকেলে। কথায় কথায় ও হঠাৎ বলল, একটি বন্য টিয়ার খোঁজ পেয়েছি। বুঝেছি, এও যে আমি। কারো খাঁচায় সে পা রাখেনি, নীড় বাঁধেনি সঙ্গী বিনে। তাই বলব না হতে চাই তার হয়েছি আমি সঙ্গী। আমি তো অবাক, ওর মুখের দিকে তাকিয়ে। তারপর বললাম, তাই তো বলি, এত কবিতা কোথা থেকে আসে? এই মেয়েটা কেরে?
