

৩২টি ছোটোগল্প ও ১৬টি গল্পকণিকার সমন্বয়ে খলিল মাহ্মুদের দ্বিতীয় ছোটোগল্পের বই এটি। প্রথম ছোটোগল্পের বই ‘সুগন্ধি রুমাল’ প্রকাশিত হয়েছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০০৪-এ। এরপর কয়েকটি উপন্যাস ও কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হলেও দীর্ঘ একযুগ পর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। প্রতিটা গল্পই বিষয়ের দিক থেকে আলাদা। প্রথম গল্পটি ‘শাস্তি’-তে রয়েছে যেমন অদ্ভুত নাটকীয়তা ও অলৌকিকতার স্বাদ, তেমনি রয়েছে মানবিকতা ও মূল্যবোধের এক চরম শিক্ষণীয় বিষয়। ‘ইলিশ পোলাও’ হলো আমাদের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের একটা বাস্তব খণ্ডচিত্র, যেখানে দুঃখ ও মমত্ববোধ পাশাপাশি বহমান। ‘রীতু আরাশিগে’ গল্পটি পাঠকের হৃদয়কে বেদনায় ভাসিয়ে দেয়। ‘নিতু’ – একটা ক্ষুদ্রগল্প কীভাবে শুরু হয়, এবং চূড়ান্ত রূপটি ধারণ করার আগ পর্যন্ত সেটি কতগুলো বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, সে বিষয়ে একটা নিরীক্ষাধর্মী গল্প। ‘পাত্র নির্বাচন’ গল্পটি হাস্যরসে ভরপুর, কিন্তু পাত্র নির্বাচনের মধ্যে যে একটা গভীর বেদনাময় সত্য লুকিয়েছিল, গল্পের শেষে যেয়ে সেটা জানতে পেরে মন কীরূপ হুহু করে ওঠে। ‘গল্পকণিকা’ খলিল মাহ্মুদের সৃষ্টি বলা যায়। গল্পের আকারের উপর ভিত্তি করে ছোটোগল্পের নানা নামকরণ থাকলেও ‘গল্পকণিকা’ পাঠকের কাছে একটু ভিন্ন স্বাদ নিয়ে আবির্ভুত হবে বলে বিশ্বাস।